বান্দরবানের দুর্গম মদক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ: নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন
দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা ঘুচিয়ে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ মদক এলাকায় প্রথমবারের মতো পৌঁছেছে সড়ক যোগাযোগ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে থানচি-রেমাক্রী-মদক-লিটক্রে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই অসাধ্য সাধন হয়েছে। সড়কটি চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।
আজ ১৯ মে, বুধবার সকালে ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম ৭০ সীমান্ত পিলার এলাকা হয়ে গাড়িযোগে বড় মদক এলাকায় পৌঁছে সড়কটির কার্যক্রম পরিদর্শন ও উদ্বোধন করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে থানচি উপজেলা পরিষদ থেকে এই সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের ৬২ কিলোমিটার কার্পেটিং ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাটির কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, সড়কের ৬৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে বড় মদক বাজার পর্যন্ত আরও ৭ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন মদক এলাকায় প্রায় ৪৫০টি পরিবার বসবাস করে। এতদিন থানচি থেকে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ নৌপথ। বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। সড়কটি নির্মাণের ফলে স্থানীয়দের চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতির সঞ্চার হবে।
স্থানীয় পাড়া কারবারী সাচিং ফ্রু মারমা বলেন, “আগে অসুস্থ রোগী নিয়ে থানচি যাওয়া ছিল আমাদের জন্য এক বড় লড়াই। সড়কটি হওয়ায় আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে।” স্থানীয় শিক্ষার্থী উশৈওয়াং মার্মা বলেন, “স্বাধীনতার পর এই প্রথম আমরা এমন উন্নয়নের মুখ দেখলাম। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ আমাদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”
সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ‘অভিযাত্রিক-১৭’ এর উদ্যোগে বড় মদক এলাকায় একটি ফুটবল মাঠও নির্মাণ করা হয়েছে। সোমবার সেখানে প্রথমবারের মতো প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, মেডিকেল ক্যাম্প ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পরিদর্শনকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ফুটবল খেলা উপভোগ করেন। একইসঙ্গে তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের-আল-হাসান জানান, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়া মানেই মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হওয়া। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
What's Your Reaction?
অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ