পাহাড়ে নির্ভয়ে ভোট প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে ৯ বিজিবির

পাহাড়ে নির্ভয়ে ভোট প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে  বিজিবির  সাথোয়াইঅং মারমা রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:সারা

সাথোয়াই অং মারমা, রোয়াংছড়ি, বান্দরবানঃ
Feb 1, 2026 - 00:15
Feb 1, 2026 - 00:15
পাহাড়ে নির্ভয়ে ভোট প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে ৯ বিজিবির

‎সারাদেশের ন‍্যায় প্রত‍্যন্ত অঞ্চল পাহাড়ে ভোট প্রদানের সীমান্তে বিজিবির কঠোর পাহারা ও পাহাড়ি জনপদের নির্জনতা আর সীমান্তঘেঁষা জনপথের নীরবতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার পাহাড়, নদী আর সীমান্তজুড়ে যেন তৈরি হচ্ছে এক নতুন নিরাপত্তা বলয়। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এই দুই উপজেলায় যৌথভাবে কাজ করবে ৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।

‎শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) ব্যাটালিয়নের সদর দফতরের সভা মিলনায়তনে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান বিজিবি কমান্ডার মেজর তিমিন রঞ্জন মহান্ত।

‎প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। বিজিবির দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, বরং জনগণের ভোটাধিকারকে ভয়মুক্ত পরিবেশে বাস্তবায়নের পথকে মসৃণ করা। নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবে বাহিনীটি।

‎তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে তারা, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন গ্রাম, দুর্গম পথ আর সীমান্তঘেঁষা জনপদগুলোতে যেন ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা।

‎নির্বাচনী নিরাপত্তাকে একটি প্রতীকী ঢাল হিসেবে উল্লেখ করে বিজিবি কমান্ডার বলেন, সীমান্ত এলাকায় যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক তৎপরতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সীমান্তে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাহাড়ি পথ, নদীপথ ও সীমান্তঘেঁষা বনাঞ্চলে বিজিবির তৎপরতা যেন এক অদৃশ্য প্রাচীর তৈরি করেছে, যা অবৈধ কর্মকাণ্ডের পথ রোধে কাজ করছে।

‎প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, রুমা ব্যাটালিয়ন (৯ বিজিবি) এর প্রশাসনিক দায়িত্বপূর্ণ এলাকা রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় নির্বাচনকালীন সময়ে সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির কুইক রেসপন্স ফোর্স, র‍্যাব এবং হেলিকপ্টারসহ বিশেষ টিম সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

‎বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনকে ঘিরে শুধু নিরাপত্তা নয়, জনগণের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধিও একটি বড় লক্ষ্য। এ জন্য বিভিন্ন প্রেষণামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাহাড়ি জনপদের মানুষ যাতে ভয়, দ্বিধা বা অনিশ্চয়তার আবরণ ভেঙে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বাহিনীটি।

‎প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সাংবাদিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মার্মা, রোয়াংছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাথোয়াইঅং মারমা, রুমা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চনুমং মারমা, সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন, অনারারী সহকারী পরিচালক সুরোজ কুমার সাহাসহ দুই উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। তাদের উপস্থিতিতে পাহাড়ি জনপদের নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট রূপ পায়।

‎রুমা ও রোয়াংছড়ির পাহাড়, নদী ও সীমান্তের নীরবতার ভেতর দিয়ে এই প্রস্তুতি যেন এক নতুন বার্তা বহন করছে। ভোট শুধু একটি দিনের ঘটনা নয়, এটি মানুষের অধিকার, বিশ্বাস ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তির প্রতীক। সেই প্রতীককে সুরক্ষিত রাখতেই ৯ বিজিবির এই যৌথ উদ্যোগ। পাহাড়ি জনপদের প্রতিটি পথ, প্রতিটি ঘাট, প্রতিটি সীমান্তচৌকিতে যেন শান্তির প্রহরা বসানো হয়েছে, যাতে ভোটের দিনটি রূপ নেয়। শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য এক গণতান্ত্রিক আয়োজনে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow