আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বাংলাদেশে জামায়াতিদের অস্বস্তি বেড়েছে: শুভেন্দু
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো জনসভায় কড়া ভাষায় বিরোধীদের আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়েও বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
‘ভয় পাওয়ার পাত্র নই’
জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর কংগ্রেস, তৃণমূল কিংবা সিপিআইএম—এরা যতটা না অস্থিরতা দেখাচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে বাংলাদেশের জামায়াতিরা। তারা আমার কার্যক্রমে ভয় পাচ্ছে, কিন্তু বলে রাখতে চাই—আমি ভয় পাওয়ার বা মাথা নত করার পাত্র নই।”
অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কড়া বার্তা
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশের বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের কাছে সবার আগে দেশ। যারা অ-ভারতীয় এবং অনুপ্রবেশকারী, তাদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় এসেছে। যারা এপারে এসে অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি—আপনারা যে পথ দিয়ে এসেছিলেন, সেই পথেই ফিরে যান।”
ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
সোমবার মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। এখন থেকে রাজ্যে কোনো ধর্মীয় শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তিতে সরকারি প্রকল্প বা ভাতা দেওয়া হবে না। এর ফলে ইমাম, মোয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য এতদিন যে সরকারি ভাতা দেওয়া হতো, তা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “সরকারের কাজ ধর্মীয় ভাতা দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। ইমাম বা পুরোহিতদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ এখন ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পে যুক্ত করা হবে, যা থেকে সব ধর্মের মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। বাংলায় তোষণের রাজনীতি আর চলবে না।”
পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা
ভবানীপুরের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে তারা যথাযথ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখন থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন এবং সমস্যার সমাধানে একটি হটলাইন নম্বর চালু করবেন।
তৃণমূল নেত্রীর পরাজয় প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “যিনি নিজের বুথেও জিততে পারেন না, তাকে বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। তার রাজনৈতিক দিন শেষ।” এছাড়া রাজ্যের আগের সরকারের আমলের দুর্নীতির তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ