দুর্গম থানচির পাহাড়ে হাম-রুবেলা: আক্রান্ত ৮৪ শিশু। মেডিকের টিম প্রেরণ
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে হাম ও রুবেলা রোগ। উপজেলার রেমাক্রী ইউনিয়নের লিটক্রে ম্রো পাড়া, সূর্যমনি ত্রিপুরা পাড়া, ছোট ইয়াংব পাড়া, বড় ইয়াংব পাড়া, রেনি ম্রো পাড়া ও মানযা ম্রো পাড়াসহ আশপাশের ৫–৬টি গ্রামে অন্তত ৮৪ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের সবাই স্কুলপড়ুয়া ছাত্র।
রেমাক্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে রোববার (১৭ মে) ভোরে জরুরি ভিত্তিতে একটি মেডিকেল টিম আক্রান্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ৫ সদস্যের এই টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ঋতু পর্না চাকমা ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জ্যোতি প্রিয় চাকমা।
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ হাসিবুল জানান, ৫ সদস্যের মেডিকেল টিমটি হাম-রুবেলা, জ্বর, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া ও সর্দি-কাশিসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় ঔষধ ও সরঞ্জাম নিয়ে ইঞ্জিন বোটযোগে লিটক্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাংচং ম্রো জানান, প্রতিবেশী আলীকদম উপজেলার কুরুপপাতা এলাকা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছুটিতে বাড়ি আসার পর থেকেই এই রোগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, ফুসকুড়ি ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, মায়ানমার সীমান্তবর্তী লিটক্রে এলাকাটি থানচি সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। সাঙ্গু নদীপথে একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ইঞ্জিন বোটে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় দুই দিন সময় লাগে। যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসায় সেখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করা প্রয়োজন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, "সম্প্রতি থানচি সদরের দুটি ছাত্রাবাস থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জন শিশু ও নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২০২৬ সালের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীও ছিল। চিকিৎসা শেষে তারা সুস্থ হয়ে আজ রোববার দুপুরে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।"
তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে দুর্গম ওই এলাকায় অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের পরিকল্পনা চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ