ফরিদপুরে মা-মেয়ে হত্যা রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেপ্তার, বিয়ের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটিচাপা

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
১৭ মে, ২০২৬ ২:২১ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে মা-মেয়ে হত্যা রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেপ্তার, বিয়ের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটিচাপা

ফরিদপুরে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মা ও তার পাঁচ বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে ঘাতক উজ্জ্বল খানকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

আজ রবিবার (১৯ মে) দুপুর ১টায় ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৪ মে কোতোয়ালী থানাধীন চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে জাহানারা বেগম (৩০) ও তার শিশু কন্যা সামিয়ার (৫) গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

মামলাটির তদন্তভার পান এসআই (নিঃ) মো. আবুল বাশার মোল্লা। তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত মো. উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে উজ্জ্বল খান মা-মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

**হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে:**
পুলিশ জানায়, ঢাকার আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বলের পরিচয় ও পরবর্তীতে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৪ মার্চ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাহানারাকে ফরিদপুরে ডেকে নিয়ে আসেন উজ্জ্বল। ওই রাতে চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাগের মাথায় উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারা বেগমকে এবং পরে তার ৫ বছরের শিশু কন্যা সামিয়াকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। 

হত্যাকাণ্ড শেষে নিজের বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যান ঘাতক উজ্জ্বল। 

**আলামত উদ্ধার ও আইনি ব্যবস্থা:**
পুলিশের অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক ও মালা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র, কোদাল এবং আসামির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— জেলা পুলিশের ডিআই-১ ইন্সপেক্টর মো. মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এবং পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। 

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।