বাকলাই পাড়ায় ২৭ বম পরিবারে সেনাবাহিনীর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্প থেকে মোট ২৭টি বম পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী (২৬–২৭ নভেম্বর) এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
২০২১–২০২২ সালে কেএনএফ সশস্ত্র গোষ্ঠীর অত্যাচার ও নিপীড়নের কারণে বহু বম পরিবার নিজেদের পাড়া ছেড়ে গহিন জঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। জীবনের নিরাপত্তা আর ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষায় তারা দীর্ঘদিন পাড়ায় ফিরতে পারেনি। সংকটময় সেই সময়ে পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সদর দপ্তর ২৪ পদাতিক ডিভিশন, সদর দপ্তর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সেনা সদস্যরা পালিয়ে যাওয়া পরিবারগুলোকে নিরাপদ আবাসে ফেরাতে উদ্যোগ নেয়। ধীরে ধীরে পাড়াবাসী আবার ফিরে আসে তাদের নিজ পাড়ায় এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় শুরু হয় পাড়া পুনর্গঠনের নতুন যাত্রা।
দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আওতাধীন বাকলাইপাড়া সাব–জোনে প্রথমে ১৫টি পরিবার ফিরে আসে। এরপর ২০ মার্চ থান্দুই পাড়ায় ৫টি পরিবার, ৭ এপ্রিল সিমত্লাংপি পাড়ায় ৪টি পরিবার এবং ২৬ অক্টোবর প্রতাপাড়ায় আরও ৩টি পরিবার পুনর্বাসিত হয়। সর্বমোট ২৭টি পরিবার পুনরায় বসতি স্থাপন করেছে।
দীর্ঘদিন পাড়ায় কেউ না থাকায় জুম চাষ ব্যাহত হয় এবং চাষের জমি ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়। পুনর্বাসনের পর থেকে বাকলাইপাড়া সেনা সাব–জোন নিয়মিতভাবে খাদ্যরসদসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সরবরাহ করে আসছে।
২৬–২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বাকলাইপাড়া, প্রতাপাড়া, সিমত্লাংপি পাড়া ও থান্দুই পাড়ার মোট ১০৫ জনকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন সেনা সদস্যরা। দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে সেনা সদস্যরা এসব সামগ্রী প্রত্যেক পরিবারের হাতে পৌঁছে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার, সংশ্লিষ্ট পাড়ার কারবারি, ধর্মযাজক, শিক্ষক ও পাড়াবাসী।
পাড়াবাসীরা জানান, বরাবরের মতো সেনাবাহিনী সবসময় তাদের পাশে রয়েছে—যা তাদের কাছে গর্বের বিষয়। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজন ও চলমান বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন ক্যাম্প কমান্ডার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেনাবাহিনী ও পাড়াবাসীর যৌথ প্রচেষ্টায় পার্বত্য অঞ্চল আরও সুন্দর ও উন্নত হয়ে উঠবে।
What's Your Reaction?
অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ