রাজসাক্ষী করতে প্রসিকিউশনের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে: চিফ প্রসিকিউটর
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী করার কথা বলে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। চিফ প্রসিকিউটর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনালের কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সদ্য বিদায়ী প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের শেষ কর্মদিবস গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তিনি ট্রাইব্যুনালের আরেক প্রসিকিউটর ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন চিফ প্রসিকিউটর এই তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এদিকে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়াও নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এসব মামলার তদন্ত সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি জানান, আগের তদন্তে কোনো প্রকার ভুল বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রসিকিউশন টিমের সব সদস্যকে নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করেন আমিনুল ইসলাম। সেখানে তিনি জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থাসহ ট্রাইব্যুনালের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ