হামের পর এবার থানচির দুর্গম পাহাড়ে ডায়রিয়ার হানা: আক্রান্ত অর্ধশতাধিক, ওষুধের চরম সংকট

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
May 22, 2026 - 11:56
May 22, 2026 - 11:56
হামের পর এবার থানচির দুর্গম পাহাড়ে ডায়রিয়ার হানা: আক্রান্ত অর্ধশতাধিক, ওষুধের চরম সংকট

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব কাটতে না কাটতেই এবার হানা দিয়েছে ডায়রিয়া। ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এবং স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইনের সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হ্লাথোয়াইপ্রু মারমা ডায়রিয়া পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, রেমাক্রী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদা ম্রো পাড়ায় ৮ জন, অংহ্লা খুমী পাড়ায় ৬ জন, লাইথাং মেম্বার পাড়ায় ৬ জন, রেমাক্রী বাজারে ১০ জন, জাদি পাড়ায় ৫ জন এবং কলা পাড়ায় ৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী তিন্দু ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চিংথোয়াইঅং হেডম্যান পাড়ায় আরও ১০-১২ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে রেমাক্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী খ্যাইম্রউ মারমার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রেমাক্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেনার্ডিক্ট ত্রিপুরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আক্রান্তদের মধ্যে আমাদের স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।"

চিকিৎসা সংকটের বিষয়ে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মংসাচিং মারমা জানান, রেমাক্রী বাজারের ফার্মেসিগুলোতে জীবন রক্ষাকারী কলেরা স্যালাইনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শৈবাথোয়াই মারমা। তিনি জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে (আরএমও) জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, "মিয়ানমার সীমান্তবর্তী লিটক্রে এলাকায় সম্প্রতি ৮৪ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার পর সেখানে আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। বর্তমানে আমি একটি সরকারি কর্মসূচিতে কক্সবাজারে আছি। তবে রেমাক্রী ও তিন্দুতে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার খবর পেয়েছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"

পাহাড়ি এই জনপদে মহামারির আকার ধারণ করার আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ ও বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow