ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক ব্যবসায়ীর তাণ্ডব: সৌদি প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম, ৩ লাখ টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাই
ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় সাহেব বেপারী নামের এক সৌদি আরব গমনেচ্ছু যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী উজ্জ্বল আকন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। শুধু হামলা নয়, মুমূর্ষু অবস্থায় ওই যুবকের কাছে থাকা সৌদি যাওয়ার জন্য জমানো ৩ লাখ টাকা, দুটি দামি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাহেব বেপারী সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে টাকা জমা দিতে বাড়ি থেকে বের হন। পথিমধ্যে স্থানীয় শাহজাহান মেম্বারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার নেপথ্যে প্রতিহিংসা:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মাদক ব্যবসায়ী উজ্জ্বলের দুই সহযোগীকে পুলিশ আটক করে। এতে উজ্জ্বল সন্দেহ করে যে, সাহেব বেপারীই পুলিশকে তথ্য দিয়ে তার সহযোগীদের ধরিয়ে দিয়েছেন। এই প্রতিহিংসার জেরে উজ্জ্বল আকন (৩০), ইকবাল আকন (২৮), আজিজুল আকন (২৫) এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাহেবের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল সরাসরি সাহেব বেপারীর মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সাহেব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তার সঙ্গে থাকা নগদ ৩ লাখ টাকা, একটি আইফোন, একটি স্যামসাং ফোন এবং 'এইচ হান্ড্রেড' মডেলের মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও প্রাণনাশের হুমকি:
আহত সাহেব বেপারীর আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় ৬টি সেলাই দিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাহেব বেপারী অভিযোগ করে বলেন, "উজ্জ্বল দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় মাদকের রামরাজত্ব কায়েম করেছে। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই সে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।" ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর থেকেও বিভিন্ন মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা তাদের হুমকি দিচ্ছে, যার ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও পুলিশের বক্তব্য:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, উজ্জ্বলের মাদক নেটওয়ার্ক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তারা দ্রুত এই মাদক সম্রাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
What's Your Reaction?
সদরপুর(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ