এজলাসে তিথিকে নিয়ে বিতর্ক, ইকরার আরেক বিয়ের তথ্য, আইনজীবীদের হট্টগোল

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ জুন, ২০২৬ ৮:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
এজলাসে তিথিকে নিয়ে বিতর্ক, ইকরার আরেক বিয়ের তথ্য, আইনজীবীদের হট্টগোল

স্ত্রী আফরা ইভনাত ইকরার আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। শুনানিকালে এজলাসে বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

এর আগে, দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আলভীকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে আলভীর পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী।

রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষের অভিযোগ:
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুনুর রশিদ দাবি করেন, আলভী তার স্ত্রী ইকরাকে অবহেলা করে নাট্য অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি তিথির জন্মদিনে তারা নেপালে ঘুরতেও গিয়েছিলেন। ফেসবুকে তিথির প্রশংসা করে আলভীর দেওয়া পোস্ট এবং তিথির মেহেদি রাঙানো হাতে আলভীর নাম লেখা ছবি পোস্ট করার বিষয়গুলো ইকরাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। মৃত্যুর আগে ইকরা মেসেঞ্জারে লিখে গেছেন যে, তার মৃত্যুর পেছনে তিথির হাত রয়েছে। এছাড়া আলভীর উসকানিমূলক ফেসবুক পোস্ট ইকরাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসেন মৃধা অভিযোগ করেন, আলভী নিজেই মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এখন পার পাওয়ার জন্য মৃত ব্যক্তির নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছেন। 

আসামিপক্ষের যুক্তি:
বিপরীতে আলভীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রুবায়েত দাবি করেন, ২০১০ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ইকরার পরিবার তার অমতে অন্য জায়গায় বিয়ে দেয়। আইনজীবী আদালতে ইকরার একটি হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) পড়ে শোনান, যেখানে ইকরা নিজের পরিবারকে ‘টক্সিক’ উল্লেখ করে আলভীর কাছে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আসামিপক্ষের দাবি, পারিবারিক এই জটিলতার কারণে ইকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং তিনি বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ ও ওষুধ নিতেন, যা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে থাকতে পারে।

শুনানির একপর্যায়ে আদালতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হলে বিচারক উভয় পক্ষের মাত্র দুজন করে আইনজীবীকে এজলাসের সামনে থাকার অনুমতি দিয়ে বাকিদের দূরে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে জাহের আলভীর বক্তব্য:
বিচারকের অনুমতি নিয়ে অভিনেতা জাহের আলভী আদালতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। আমাদের সম্পর্কে মান-অভিমান ও ঝগড়া থাকলেও এমন কোনো পরিস্থিতি ছিল না যার জন্য ইকরা আত্মহত্যা করবে।" তিথির হাতে তার নাম লেখা ছবিটিকে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন এবং নেপাল সফরটি নাটকের শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে ছিল বলে জানান। নিজের শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি আদালতের কাছে জামিন প্রার্থনা করেন।

শুনানি শেষে আদালত জাহের আলভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর আলভীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।