পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও আহত ১০

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
৮ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১৯ পিএম
শেয়ার করুন:
পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতরদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বশির মাতুব্বরের বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধেন স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান (হবি মেম্বার)-এর সমর্থক হাবিবুর। কিন্তু আড়া বাঁধার কারণে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়াটি খুলে দেন।

তবে আড়া খুলে ফেলার পেছনে বশির মাতুব্বরকে দায়ী করেন হবি মেম্বারের সমর্থকরা। এর জের ধরে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালালে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে হামলা চালিয়ে বশির মাতুব্বরের দুটি ঘর ও সীমানার টিনের বেড়াসহ কয়েকটি বসতবাড়ি এবং একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় বশির মাতুব্বরের স্ত্রীসহ কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বশির মাতুব্বর বলেন, "মসজিদের সামনের বাঁশের আড়া খোলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তা সত্ত্বেও আমাকে অন্যায়ভাবে দায়ী করে আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা আমার দুটি বসতঘর ও সীমানার বেড়া ভাঙচুর করেছে। হামলায় আমার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।"

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান (হবি মেম্বার) জানান, "পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘাতের কথা শুনেছি, এর বাইরে আমি কিছু জানি না। তবে এই ঘটনায় আমার ৪ থেকে ৫ জন সমর্থক আহত হয়েছেন।"

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, "সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।