নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, গুলিবিদ্ধ ২: দুই শুটারকে ধরতে দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
৮ আগস্ট, ২০২৬ ৭:০৫ পিএম
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, গুলিবিদ্ধ ২: দুই শুটারকে ধরতে দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, চৌমুহনী হকার্স সমবায় সমিতির সভাপতি ও ‘বাঁধান পরিবহন’-এর চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেমকে (৬০) লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও তাঁর সঙ্গে থাকা স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী ও বেস্ট কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ইয়াছিন সেন্টু বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটের মূল গলি এলাকার ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াছিন সেন্টুকে প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে শুক্রবার বিকেলে চৌমুহনী বাজারে যৌথভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্থানীয় বিএনপি ও চৌমুহনী হকার্স সমবায় সমিতি। এছাড়া হামলাকারী দুই শুটারকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে তাঁদের তথ্য প্রদানকারীর জন্য **দুই লাখ টাকা পুরস্কার** ঘোষণা করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদ ও শুটারদের গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার সকালে হকার্স মার্কেটের সকল দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হকার্স সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন হামলার মূল নিশানা হাজী আবুল কাশেম। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, *"বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে ৪২টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে হকার্স মার্কেটে চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার ঘটাতে চেষ্টা চালিয়ে আসছে।"* 

কারো নাম উল্লেখ না করে এক ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, *"২০২৬ সাল পর্যন্ত মদ পানের লাইসেন্সধারী এবং নানাবিধ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ওই ব্যক্তি আমাকে হত্যা করে হকার্স মার্কেট দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।"*

ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে আবুল কাশেম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ও তাঁর সহযোগী ইয়াছিন সেন্টু কার্যালয় থেকে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে হেডলাইটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাঁদের গতিপথ রোধ করে। এসময় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা যুবক তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে সরাসরি গুলি চালায়। 

প্রথম গুলিটি তাঁর ডান হাত ঘেঁসে চলে গেলে তিনি চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই মোটরসাইকেলটি ঘুরিয়ে দুর্বৃত্তরা আবারও গুলি ছুড়লে পেছনে থাকা ইয়াছিন সেন্টু তাঁকে বাঁচাতে সামনে চলে আসেন এবং গুলিটি সেন্টুর বুকে লাগে। পরে তিনি (আবুল কাশেম) মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।