আকামা নিয়ে বাংলাদেশিদের সুখবর দিল সৌদি আরব

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ আগস্ট, ২০২৬ ৫:০৭ পিএম
শেয়ার করুন:
আকামা নিয়ে বাংলাদেশিদের সুখবর দিল সৌদি আরব

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আকামা (বসবাস ও কাজের অনুমতিপত্র) নিয়ে একটি বড় স্বস্তির খবর এসেছে। এখন থেকে কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা বা 'কফিল' কোনো বাংলাদেশি কর্মীর আকামা নবায়ন না করলে, আইনগত কোনো ঝামেলা ছাড়াই তিনি দ্রুততম সময়ে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়ন করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌদি আরবের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সৌদি আরবের 'হিউম্যান রিসোর্সেস'-এর ডেপুটি মিনিস্টার মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা এবং 'ফরেন কনস্যুলার'-এর ডেপুটি মিনিস্টার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি।

সৌদি ডেপুটি মিনিস্টার মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা বৈঠক চলাকালে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, কর্মস্থলে নিয়োগকর্তা বা কফিল আকামা নবায়নে বিলম্ব বা অস্বীকৃতি জানালে, কর্মী আইনি জটিলতা এড়িয়ে সহজেই নতুন কোনো কফিলের অধীনে স্থানান্তরিত হতে পারবেন এবং আকামা নবায়ন করতে পারবেন। 

শ্রম সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের একাধিক প্রস্তাব
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে শ্রম সম্পর্কিত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করে বাংলাদেশ পক্ষ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

চুক্তি পর্যালোচনা ও নবায়ন: গৃহকর্মী নিয়োগ, সাধারণ কর্মী নিয়োগ এবং শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ (SVP) চুক্তির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও নবায়নের প্রস্তাব।
যৌথ কমিটির বৈঠক: দ্রুত ও সুবিধাজনক সময়ে যৌথ কমিশন এবং যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক আয়োজনের আহ্বান।
যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট: বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, আরবি ভাষা শিক্ষাদান, সৌদি আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতে বাংলাদেশে একটি ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব।
দক্ষতার স্বীকৃতি: স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি (IT) এবং হসপিটালিটি খাতে পেশাদার ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুবিধার্থে ভোকেশনাল ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি।
ওয়ার্ক পারমিট ও ফি জটিলতা নিরসন: নির্ধারিত সময়ে আকামা ও ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু বা নবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। বিশেষ করে, আকামার বর্ধিত ফি-এর দোহাই দিয়ে যেসব নিয়োগকর্তা অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ঘটান, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, "বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশি কর্মীরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যেমন সৌদি আরবের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন, তেমনি দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করছেন।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।