বিলুপ্ত হচ্ছে র‌্যাব: আসছে নতুন বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৪৩ পিএম
শেয়ার করুন:
বিলুপ্ত হচ্ছে র‌্যাব: আসছে নতুন বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’

বিতর্কিত এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে এর স্থানে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করে জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। 

খসড়া আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‍্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হয়ে নতুন এই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

বাহিনীর গঠন ও নেতৃত্ব
পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট: এসআরবি পরিচালিত হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে। এর সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের যেকোনো স্থানে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন বা সেকশন স্থাপন করা যাবে। 
নেতৃত্ব: অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক (ডিজি) এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জনবল নিয়োগ: পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও প্রেষণে (সর্বনিম্ন দুই বছরের জন্য) সদস্যদের এই বাহিনীতে যুক্ত করা যাবে।

প্রতীক ও পোশাক: নতুন বাহিনীর নিজস্ব লোগো, পতাকা এবং সুনির্দিষ্ট পোশাক থাকবে।

দায়িত্ব ও অপারেশনের পরিধি
খসড়া আইন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার অপরাধ ও মানবপাচার দমন এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ করাই হবে এসআরবির মূল কাজ। 

আইনগত ক্ষমতার দিক থেকে:
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এই বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি, মালামাল জব্দ ও গ্রেপ্তারি অভিযান চালাতে পারবেন।
আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা কোনো অপরাধের তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।
সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদকক্ষ থাকবে।

জবাবদিহিতা ও অভিযোগ প্রতিকার কমিটি
অতীতে র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে নানা অভিযোগ ছিল, তার প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি শক্তিশালী ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

কমিটির কাঠামো: এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে এই কমিটিতে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার বা আইন বিষয়ে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সরকার মনোনীত ব্যক্তি।
কাজ: সাধারণ নাগরিকরা এই বাহিনীর কোনো সদস্য বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে কমিটি তা তদন্ত করবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। 

সদস্য কঠোর শৃঙ্খলাবিধি ও রূপান্তর প্রক্রিয়া
বাহিনীর সদস্যদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, মাদকাসক্তি, অবৈধ অর্থ আদায় বা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাদের নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া কোনো সদস্য অপরাধ করে পলাতক হলে তাকে গ্রেপ্তারে ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের অনুরোধকে ম্যাজিস্ট্রেটের পরোয়ানা হিসেবে গণ্য করে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

নতুন আইন পাস হওয়ার পর র‌্যাবের বিদ্যমান সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, জনবল, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চুক্তি নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’-এর অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।