সহজে চিনে নিন ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ মুক্ত ৮ টি টুথপেস্ট কোনগুলো

অনলাইন ডেস্কঃ
২৭ জুলাই, ২০২৬ ২:৪১ পিএম
শেয়ার করুন:
সহজে চিনে নিন ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ মুক্ত ৮ টি টুথপেস্ট কোনগুলো

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় ২৬টিতেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকের’ উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পরীক্ষায় ৮টি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। 

পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক গবেষণাধর্মী সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (ইএসডিও)-র এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায়, পরীক্ষায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে।

রাজধানীর লালমাটিয়ায় সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক এ গবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। 

কীভাবে পরিচালিত হয় গবেষণা?
ইএসডিও জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই গবেষণা পরিচালিত হয়। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, পাইকারি বাজার ও খুচরা দোকান থেকে স্থানীয় ও আমদানিকৃত মোট ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নমুনাগুলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণ করা হয়। 

পরীক্ষিত টুথপেস্টগুলো মূলত বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের টুথপেস্টেই কম-বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে—
বাংলাদেশ: ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে।
ভারত: ৫টি নমুনার মধ্যে ১টিতে পাওয়া গেছে।
থাইল্যান্ড: ২টি নমুনার মধ্যে ১টিতে পাওয়া গেছে।
ভিয়েতনাম: ২টি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি
ইএসডিও-র গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নিচে উল্লেখিত ৮টি টুথপেস্ট সম্পূর্ণ মাইক্রোপ্লাস্টিক মুক্ত

১. জেনফ্রেশ (দেশীয় ব্র্যান্ড)  
২. প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি - ম্যাঙ্গো (দেশীয় ব্র্যান্ড)  
৩. ক্লোজ-আপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি (দেশীয় ব্র্যান্ড)  
৪. প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার (ভারত)  
৫. সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল (ভারত)  
৬. কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ (ভারত)  
৭. কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট (ভারত)  
৮. কুডুমু - অরেঞ্জ (থাইল্যান্ড)  

---

কোন টুথপেস্টে ক্ষতিকর কণা কতটুকু?
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে *মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে*। 

এছাড়া—
১৬০টি করে কণা: ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ।
১৪০টি কণা: কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরি।
১২০টি কণা: সিগন্যাল গ্রিন টি।
১০০টি করে কণা: পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট এবং হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার।
৮০টি কণা: সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট।
৬০টি করে কণা: পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি-স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা।
৪০টি করে কণা: এএম.পিএম. হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডент জার্মিচেক প্লাস, মেরিল বেবি-অরেঞ্জ, ম্যাজিক হার্বাল, মেসবাক এবং ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশে।
২০টি করে কণা: ডেন্টিন জেল, পেপসোডент কিডস-অরেঞ্জ, ক্লোজ আপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল এবং হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ।

ইএসডিও-র পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ

ইএসডিও স্পষ্ট করেছে যে, তাদের গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা নয়। মূলত বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের নির্দিষ্ট কোনো জাতীয় মানদণ্ড, পরীক্ষাগারের নির্দেশিকা কিংবা লেবেলে উপাদান সম্পর্কিত স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সংস্থাটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছে:
১. টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন করা।
২. নিয়মিত বাজার তদারকি এবং পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৩. পণ্যের গায়ে উপাদানসমূহের স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা।
৪. সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, প্রস্তুতকারক ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর সম্মিলিত পদক্ষেপে কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।