স্বল্প সঞ্চয়ে বড় স্বস্তি: বিজয়নগরে ১৭ কিস্তিতে ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার বীমা দাবি পেল পরিবার

মোঃ শামীম মিয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:২৭ পিএম
শেয়ার করুন:
স্বল্প সঞ্চয়ে বড় স্বস্তি: বিজয়নগরে ১৭ কিস্তিতে ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার বীমা দাবি পেল পরিবার

হঠাৎ স্বজন হারানোর গভীর শোকের মাঝে পরিবারের জন্য এক বড় আর্থিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে মাত্র ২ হাজার টাকার মাসিক সঞ্চয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির এক নারী গ্রাহকের মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার মাত্র দুই কর্মদিবসের মধ্যে নমিনীর ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিজয়নগরে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে মরহুমা শাকরীন আক্তারের পরিবারের কাছে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর করা হয়। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের নোয়াগাঁও কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা মরহুমা শাকরীন আক্তার জীবদ্দশায় আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আখাউড়া শাখার অধীনে মাসিক ২ হাজার টাকা কিস্তির একটি ডিপিএস পলিসি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু মাত্র ১৭টি কিস্তি জমা দেওয়ার পরই আকস্মিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এতে পরিবারটি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে বীমা কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মাত্র দুই কর্মদিবসের মধ্যেই নমিনী নাসরিন আক্তারের ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দাবি বাবদ জমা হয়।

চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেলস ম্যানেজার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন আখাউড়া শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ এমরান খান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ এমরান খান বলেন, “গ্রাহকের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধতা ও আস্থার প্রতিদান হিসেবে আমরা দ্রুততম সময়ে এ দাবি নিষ্পত্তি করতে পেরেছি। মরহুমা শাকরীন আক্তার জীবদ্দশায় নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে মাত্র ২ হাজার টাকা করে সঞ্চয় করেছিলেন। হয়তো তখন এটি খুব বড় অঙ্ক ছিল না, কিন্তু তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে এই ক্ষুদ্র সঞ্চয়ই আজ পরিবারের জন্য বড় আর্থিক ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।” 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাপ্ত বীমা দাবির অর্থ দিয়ে মরহুমার একটি জরুরি ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে। এতে স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি পরিবারের ওপর নেমে আসা আর্থিক টানাপোড়েনের চাপ অনেকটাই লাঘব হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জীবনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা কখন নেমে আসে তা কেউ বলতে পারে না। তবে সময় থাকতে ছোট ছোট সঞ্চয় ও সঠিক বীমা পরিকল্পনা পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে বীমা দাবি নিষ্পত্তির এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মরহুমা শাকরীন আক্তারের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদের সম্মানিত ইমাম সাহেব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।