সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের সহযোগীতা চায় - বিজিএমইএ সভাপতি

মোঃ রহমতুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের সহযোগীতা চায় - বিজিএমইএ সভাপতি

তৈরি পোশাকশিল্পের বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর ভূমিকা নিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকে তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি পরিস্থিতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং এলডিসি উত্তরণজনিত চ্যালেঞ্জসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৩ হাজার উদ্যোক্তা সরাসরি এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। দেশের কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও খাতটি বর্তমানে নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন, অনুকূল পরিবেশ পেলে তৈরি পোশাক রপ্তানি অদূর ভবিষ্যতে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। তবে বর্তমানে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা অব্যাহত থাকলে এ খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। 

বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পোশাক খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও উত্তরণের উপায় নিয়ে আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে ও শিল্পের সংকট উত্তরণে আমরা সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করি।” এছাড়া শিল্প ও অর্থনীতির সুরক্ষায় একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের ওপরও জোর দেন তিনি। 

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার ব্রিফিংয়ে বলেন, “সংসদে একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের অংশ হিসেবেই দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তাই এ খাতের সংকট নিরসনে সরকার, বিরোধী দলসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সরকারের যেকোনো জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে, তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সংসদ ও রাজপথে তার প্রতিবাদ করা হবে।” তিনি জ্বালানি সংকট সমাধানে জাতীয় বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. মো. রেজাউল করিম; কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং শিল্প ও বাণিজ্য শাখার নেতৃবৃন্দ।

বিজিএমইএ-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, বিদিয়া অমৃত খান, মো. শেহাব উদ্দুজা চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।