বোয়ালমারীতে চালক বিল্লালের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ ডাকাতি মামলা: অব্যাহতি ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

এম এম জামান, বোয়ালমারী প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
৬ আগস্ট, ২০২৬ ৫:০১ পিএম
শেয়ার করুন:
বোয়ালমারীতে চালক বিল্লালের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ ডাকাতি মামলা: অব্যাহতি ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস চালক বিল্লাল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডাকাতি মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি, নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত এবং সম্মানহানির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী চালক ও তার পরিবার। 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বোয়ালমারী পৌর শহরের ‘পরশ রেন্ট-এ-কার’ কার্যালয়ে রেন্টকার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী বিল্লাল বিশ্বাস (পিতা- মৃত বনচাকী গ্রাম, চতুল ইউনিয়ন)। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। এর মধ্যে গত ২০ বছর ধরে বোয়ালমারী মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে সততা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করছি। দীর্ঘ কর্মজীবনে আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল না। অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে একটি ডাকাতি মামলায় জড়িয়ে চরম হয়রানি করা হচ্ছে।”

ঘটনার বিবরণ দিয়ে চালক বিল্লাল জানান, গত ২৭ মে (ঈদুল আজহার আগে) রাত ৮টার দিকে আলফাডাঙ্গার কয়েকজন গরু ব্যবসায়ীকে আনতে তিনি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার হরিনারঘাট এলাকায় যান। রাত ১টার দিকে যাত্রীদের নিয়ে ফেরার পথে ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের মীরেরডাঙ্গা সেতুর ওপর পৌঁছালে দেখেন সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। 

তিনি অভিযোগ করেন, গাড়ি থামানোর সঙ্গে সঙ্গেই একদল সশস্ত্র ডাকাত গাড়ির গ্লাস ভেঙে তার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ ২ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। গাড়িতে থাকা আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের চর-নারায়ণদিয়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী রমজান পালানোর চেষ্টা করলে তাকে মারধর করা হয় এবং অন্য সব যাত্রীর নগদ টাকা ও ফোন লুট করা হয়। সে সময় সামনে থাকা একটি ইজিবাইকেও একই ডাকাত দল ডাকাতি করে। ঘটনার পর তারা মুকসুদপুর থানায় গেলেও কোনো লিখিত অভিযোগ না দিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, পরদিন সকালে যাত্রীদের বাড়ি পৌঁছানোর পর কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী অন্যায্যভাবে তাকে ডাকাত দলের সহযোগী আখ্যা দিয়ে মারধর করেন ও আটকে রেখে ৮৫ লাখ টাকা দাবি করেন। খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে গেলে তাদেরও জিম্মি করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। 

কিন্তু ঘটনার তিন দিন পর গরু ব্যবসায়ী রমজান বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় উল্টো চালক বিল্লাল বিশ্বাসের বিরুদ্ধেই ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বিল্লাল বিশ্বাস ও তার পরিবার এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং তার সম্মানহানির ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

এ সময় রেন্টকার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সদস্য পলাশ সরকার, গ্রামীণ রেন্ট-এ-কারের মালিক মহাসিন ইসলাম স্বপন, ভুক্তভোগীর স্ত্রী আফরোজা বেগম ও ভাই লায়েস বিশ্বাসসহ স্থানীয় চালক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বিল্লাল বিশ্বাস স্ট্যান্ডের একজন সৎ ও দায়িত্বশীল চালক। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে একজন পেশাদার চালককে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ বিল্লালকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।