বিপ্লবের দুই বছর পরও মানুষের স্বস্তি ফেরেনি: নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্কঃ
৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩২ পিএম
শেয়ার করুন:
বিপ্লবের দুই বছর পরও মানুষের স্বস্তি ফেরেনি: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে দেশ আবারও সংকটের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' ও বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। 

বার্তার শুরুতে বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, "৫ আগস্ট জাতির ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন, যা বাংলা ব-দ্বীপের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, গৌরব ও বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক।" 

এ সময় তিনি ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, ফরায়েজি আন্দোলন এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে জনগণের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও দমন-পীড়ন চেপে বসে। অবশেষে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, আলেম-ওলামা, নারী ও প্রবাসীসহ সর্বস্তরের জনতার সম্মিলিত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসে।

তবে ৫ আগস্টের বিজয়ের পরও শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি দাবি করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ক্ষমতার রাজনীতির টানাপোড়েনে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপের জনআকাঙ্ক্ষা বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন:
রাষ্ট্রীয় সংস্কার: গণভোটে প্রাপ্ত জনরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধ: রাজনীতি থেকে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে।
গণতান্ত্রিক সহাবস্থান: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সুস্থ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
গণহত্যার বিচার: ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত সব গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

বার্তার শেষভাগে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ রিয়া গোপ এবং শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।