‘এইরকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি- আমরা দিতাম’

অনলাইন ডেস্কঃ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:১৪ পিএম
শেয়ার করুন:
‘এইরকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি- আমরা দিতাম’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের (১৩) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই কিশোরটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

নিহত অপ্রতীম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ও মা নাহিদা বেগমের সঙ্গে কোটবাড়ি এলাকায় বসবাস করত।

যেভাবে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম 
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোনটি নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও সে বাসায় ফেরেনি। স্বজনরা মুঠোফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে দেখতে পান, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকায় ফোনটি সচল ছিল। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ছেলের সন্ধান না পেয়ে রাতেই সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন অপ্রতীমের বাবা।

পাহাড়ে মিলল মরদেহ, নেই আইফোন  
শনিবার দুপুর ১টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামে লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন স্থানে একটি রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপ্রতীমের মরদেহ শনাক্ত করে তা উদ্ধার করে। তবে তার সঙ্গে থাকা আইফোনটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে হত্যা করে মোবাইলটি নিয়ে পালিয়ে গেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক ও ক্ষোভ
অপ্রতীমের এমন নির্মম পরিণতির খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে এক আবেগঘন বার্তায় লেখেন,  
‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি! এইরকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা–মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, “অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আজ গভীরভাবে শোকাহত।”

পুলিশের বক্তব্য
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, “নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছিল। শনিবার পাহাড়ি এলাকা থেকে কিশোরের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।