বান্দরবানের বড় মদকে আকস্মিক ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব: নারীর মৃত্যু, ওষুধ সংকটে উদ্বেগ

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:৩৫ পিএম
শেয়ার করুন:
বান্দরবানের বড় মদকে আকস্মিক ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব: নারীর মৃত্যু, ওষুধ সংকটে উদ্বেগ

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা বড় মদক গ্রামে আকস্মিকভাবে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) একদিনেই গ্রামের অন্তত ১০ জন বাসিন্দা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে শুক্রবার রাতে থুইনুপ্রু (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। 

দুর্গম পাহাড়ি এ জনপদে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইনের (ওআরএস) অভাবে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। বড় মদক বাজারের দুটি ওষুধের দোকানে জরুরি কলেরা স্যালাইন ও ডায়রিয়াবিরোধী ওষুধ না থাকায় আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিতে স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

শনিবার সকালে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বড় মদক গ্রামের বাসিন্দা চিংসাথুই মারমা জানান, শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই গ্রামের ১৬০টি পরিবারের মধ্যে ১০ জনের বেশি মানুষ ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন। বাজারে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ না থাকায় স্থানীয়ভাবে কোনো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শনিবার সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঙানিংঅং (৬০) নামের এক প্রবীণকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

ডায়রিয়ার কারণ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা চসিংমং মারমা জানান, মদক ঝিরির দূষিত ও ময়লাযুক্ত পানি ব্যবহারের কারণেই গ্রামজুড়ে এমন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। 

এনসিপির উপজেলা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা মংমে মারমা বলেন, “উপজেলা সদর থেকে বড় মদকের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। দুর্গম এ এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। হঠাৎ একসঙ্গে এত মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক দল ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র না পাঠালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

এ বিষয়ে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনির মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। খবর পেয়েই পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন, জরুরি ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ একটি বিশেষ মেডিকেল দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় বিজিবির ৩৮ ও ৫৭ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা কঠিন হওয়ায় প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে এবং গ্রামবাসীকে বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ডায়রিয়ার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত বড় মদক গ্রামে স্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সংক্রমণের উৎস শনাক্তে স্থানীয় পানি ও খাবারের নমুনা পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।