হাতিয়ায় একই বিদ্যালয়ে ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:০৭ পিএম
শেয়ার করুন:
হাতিয়ায় একই বিদ্যালয়ে ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের এমন অসুস্থতার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানি সরকারকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন—উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

**ঘটনার বিবরণ ও হাসপাতালে ভর্তি:**  
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আরও ২১ জন শিক্ষার্থী একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। 

সর্বশেষ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ আরও ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিকেলে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। 

**কীটনাশকের গন্ধ নাকি ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’?**  
শিক্ষার্থীদের এমন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, এটি ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’ বা মনস্তাত্ত্বিক কোনো প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ মতামতের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সোমবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি এক শিক্ষার্থীর বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলেও শরীরে অসুস্থতার কোনো সুনির্দিষ্ট জৈবিক কারণ মেলেনি।

অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, বিদ্যালয়ের লাগোয়া ফসলি জমিতে ছিটানো কীটনাশকের তীব্র গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় শ্বাসকষ্ট বা প্রতিক্রিয়া থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে।

একই বিদ্যালয়ে বারবার এমন অপ্রত্যাশিত ও রহস্যজনক অসুস্থতার ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।