নগরকান্দায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লোপাট ও চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:১০ পিএম
শেয়ার করুন:
নগরকান্দায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লোপাট ও চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নম্বর ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্য ও সাধারণ এলাকাবাসী এসব অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত কাজী আবুল কালাম নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। বহু প্রকল্পে কোনো ধরনের কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। আবার অনেক প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

সোনালী ব্যাংক নগরকান্দা উপজেলা শাখার ব্যাংক হিসাবের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ৮ নম্বর ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের নামে একটি বিশেষ বরাদ্দের ১০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টাকা জমা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ১০ লাখ টাকা একাউন্ট থেকে উত্তোলন করে নেওয়া হয়। তবে ইউনিয়নের কোথাও এই বরাদ্দের কোনো দৃশ্যমান কাজ করা হয়নি। 

এ ছাড়া দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরণ নিয়েও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কার্ডধারীরা। নির্ধারিত ৩০ কেজি চালের জায়গায় উপকারভোগীদের কম চাল দেওয়া এবং সরকারি চাল বাইরে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নে অনিয়ম করে আসছেন। বিগত সরকারের সময়ে চেয়ারম্যানের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি পরিষদজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। তাঁরা জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে দীর্ঘদিনের অর্থবাণিজ্যের বিষয়গুলো সরেজমিনে নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

এ ছাড়া চেয়ারম্যানের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। নিজ এলাকা ও ফরিদপুর জেলা শহরে তাঁর বহুতল বাড়িসহ বিপুল সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঙ্গী ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম প্রকল্পের অর্থ লোপাটের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “টাকা একাউন্টেই রয়েছে, যথাসময়ে কাজ করা হবে।” তবে চাল কম দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, “যাদের নামে কার্ড রয়েছে, তাদের সাথে পরামর্শ করেই ওজনে দুই কেজি করে কম দিয়ে সবাইকে ২৮ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে ডাঙ্গী ইউনিয়নের বিগত কয়েক বছরের উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ বরাদ্দ এবং ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।