রাজবাড়ীর দুই আসনেই বিএনপির জয়: বিপুল ভোটে নির্বাচিত খৈয়ম ও হারুন
রাজবাড়ী জেলার দুটি সংসদীয় আসনেই বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের এই ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার।
রাজবাড়ী-১ (সদর-গোয়ালন্দ) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২ ভোট।
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। এর আগে তিনি ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার তিনবারের সফল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই আসনে মোট ১৫৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ জন ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৭১ হাজার ৯০২ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৫৯৬ ভোট। এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু (লাঙ্গল) ২ হাজার ৫৮৬ ভোট এবং জাকের পার্টির মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস (গোলাপ ফুল) ৮ হাজার ৮৭ ভোট পেয়েছেন।
রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী, বালিয়াকান্দি) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন-অর-রশিদ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট। এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম সংসদ নির্বাচন এবং প্রথমবারই তিনি বড় জয় পেলেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোটের (এনসিপি) প্রার্থী জামিল হিজাযী শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. নাসিরুল হক সাবু কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৩৩৮ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মোহা. আব্দুল মালেক (হাতপাখা) ৮ হাজার ৫০৩ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মো. শফিউল আজম খান (লাঙ্গল) ২ হাজার ৫২ ভোট পেয়েছেন।
এই আসনে ১৯৯টি কেন্দ্রে মোট ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৪ জন ভোট প্রদান করেন। বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা ৯ হাজার ৩০৯টি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশের ন্যায় রাজবাড়ীতেও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দিনের শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গণনা শেষে রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
What's Your Reaction?
মোঃ আজমল হোসেন, বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি, রাজবাড়ীঃ