নোয়াখালীতে মহিলা ভোটারদের উপর তাবলীগ জামাতের ফতোয়া থাকলেও ভোট দিতে এবারও আগ্রহী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চারটি ইউনিয়নে ৪০ বছর আগে তাবলীগ জামাতের ফতোয়া বহাল থাকলেও ৩য় বারের মতো মহিলা ভোটররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে এবারও আগ্রহী। এতে কারো কোন প্রকার বাধা না মেনে নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বেগমগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর, ছয়ানী, আমানউল্যাপুর ও গোপালপুর ইউনিয়নে বিগত ৪০ বছর আগে তাবলীগ জামাতের বেগমগঞ্জ থানার তৎকালীন আমীর এই চারটি ইউনিয়নে মহিলারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নাজায়েয বলে ফতোয়া দিয়ে থাকে। সে থেকে মহিলারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভোট দিতে পারেনি। এরপর ১৯১৪ সন ও ১৯১৮ সন এবং ২০২৩ সনে নির্বাচনে ভোট দেন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ইউনিয়নের মহিলা ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
ছয়ানী ইউনিয়নের স্থানীয় জামাত নেতা সাইফুদ্দিন মেম্বার জানান, তাবলীগ জামাতের আমীর ছায়েদুল হক (ছাদু হুজুর) মারা যাওয়ার পর থেকে মহিলাদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে কোন প্রকার বাধা দেওয়া হয়না। এবারও তারা কোন প্রকার বাধা ছাড়া ভোট দিতে পারবে।
দূর্গাপুর ইউনিয়নের তাবলীগ জামাতের সদস্য মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, দূর্গাপুর ইউনিয়নে লক্ষ্মীনারায়নপুর ও ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে মহিলারা আগের ফতোয়ার কারনে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেত না। কিন্তু বর্তমানে মহিলারা সচেতন হওয়ায় এখন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে থাকে। এছাড়াও আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের জয়নারায়নপুর, করিমপুর, লাকুড়িয়াকান্দি এবং গোপালপুর ইউনিয়নের ফাজিলপুর, বসন্তবাগ, চাঁনকাশিমপুর, তুলাচারা, রেজ্জাকপুর ও বেতুয়াবাগ এলাকায় ফতোয়া থাকলেও বিগত ১৫ বছর ধরে মহিলারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার বুলবুল আহম্মেদ জানান, এই চারটি ইউনিয়নে মহিলাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোন ফতোয়া ছিল কিনা জানিনা। এবারের নির্বাচনে কোন প্রকার বাধা ছাড়া মহিলারা ভোট দিতে পারবে। এজন্য সব প্রকারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেউ কোন প্রকার বাধা দিলে ভ্রাম্যমান আদালতে সাথে সাথে শাস্তির বিধান রয়েছে।
What's Your Reaction?
রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ