পাহাড়–সমুদ্রে স্বস্তি সন্ধানে কুবিসাস
একটানা কাজ, পড়াশোনা, দায়িত্ব আর দুশ্চিন্তার ভিড়ে হারিয়ে যায় জীবনের স্বাভাবিক হাসি। একঘেয়েমিত??
একটানা কাজ, পড়াশোনা, দায়িত্ব আর দুশ্চিন্তার ভিড়ে হারিয়ে যায় জীবনের স্বাভাবিক হাসি। একঘেয়েমিতে যখন শরীর আর মন—দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন প্রয়োজন পড়ে একটু বিরতি, একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার। একটুখানি প্রশান্তির খোঁজে মানুষ ছুটে চলে প্রকৃতির কাছে। ঠিক এমনই এক ভাবনা থেকে পাহাড় ও সমুদ্রের সৌন্দর্য অন্বেষণে বেরিয়ে পড়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস) পরিবার।
২৬ তারিখ রাতের ২৭ জন সদস্য ও সহযোগী সদস্যনিয়ে শুরু হয় কুবিসাস পরিবারের প্রতীক্ষিত বাৎসরিক ট্যুর। প্রথম গন্তব্য—বান্দরবান হয়ে চকরিয়া। সারারাত বাসজুড়ড়ে গান, গল্প আর না চাওয়া ঘুমে কেটে যায় সময়। ভোরের আলো ফুটতেই চকোরিয়ায় পৌঁছে কুবিসাস সদস্যরা।
সকালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে সবাই রওনা দেয় পাহাড়ের চূড়ার দিকে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে উঠতে উঠতে একেকজন একেকভাবে প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ হয়। মিরিঞ্জা ভ্যালির একেকজন এক ভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ব্যস্ত ছিল কেউ ফটোগ্রাফিতে, কেউ পাহাড়ের দিকে নিস্তব্ধ থাকিয়ে পাহাড়কে নিয়ে কবিতা সাজানো আবার পাহাড়ি মানুষ জীবন যাপন নিয়ে ভাবনায় ডুবেছিলেন।
পাহাড় দর্শন শেষে দল ছুটে যায় আলীকদমের উদ্দেশে। লক্ষ্য—রহস্যময় আলী গুহা। কষ্টসাধ্য ও রোমাঞ্চকর ট্র্যাকিং শেষে সেখানে পৌঁছায় কুবিসাস পরিবার। গুহার ভেতরের পরিবেশ, শীতলতা ও প্রাকৃতিক গঠন সবাইকে মুগ্ধ করে। দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি মুহূর্তেই কেটে যায় প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যে।
দীর্ঘ ভ্রমণের পর বিশ্রামের জন্য কুবিসাস পরিবার বেছে নেয় কক্সবাজারের একটি মনোরম হোটেল। স্বল্প বিশ্রাম শেষে গভীর রাতে যার যার ইচ্ছা মতো দলে দলে নেমে আসে নীরব সমুদ্রতটে। ঢেউয়ের গর্জন, নোনা বাতাস আর জোছনার আলোয় সমুদ্র যেন হয়ে ওঠে প্রশান্তির এক অসীম রাজ্য। নির্জন সৈকতে হাঁটার অনুভূতি সত্যিই বিস্ময়কর।
২৮ তারিখ সকাল ১১টায় কুবিসাস পরিবার রওনা দেয় টেকনাফ নিরিবিলি সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশে। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চকর ও মনোমুগ্ধকর ছিল জায়গাগুলো। খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ, দলবদ্ধ ছবি তোলা, আবার কখনো নীরবে বসে সমুদ্রের ভাষা বোঝার চেষ্টা—সব মিলিয়ে সময় কাটে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে।
হঠাৎ করেই চোখে পড়ে অস্তগামী সূর্য। সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে উপভোগ করে মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্তের দৃশ্য। সেই মুহূর্ত যেন পরিণত হয় আজীবনের স্মৃতিতে।
রাতের খাবার শেষে শুরু হয় ফেরার প্রস্তুতি। বাসে উঠে কুবিসাস পরিবার রওনা দেয় কুমিল্লার পথে। ২৯ তারিখ সকালে ক্যাম্পাস গেটে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই স্মরণীয় ভ্রমণ।
What's Your Reaction?
আলী আকবর শুভ, কুবি প্রতিনিধি, কুমিল্লাঃ