শ্রীনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পাল্টাপাল্টি হামলায় ১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের গুঞ্জন

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও মামলা মোকদ্দমার বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্?

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
Feb 7, 2026 - 18:43
Feb 7, 2026 - 18:58
শ্রীনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পাল্টাপাল্টি হামলায় ১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের গুঞ্জন

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও মামলা মোকদ্দমার বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় ১০ জন গুরুত্বর হয়েছেন। 

এ ঘটনায় আলমগীর (৫০) এর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার বালাশুর চৌরাস্তা ও সকাল ৭টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দুই দফা এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতের হলো তাপস মোল্লার ছেলে মিলন মোল্লা (২৮), দাদন বেপারীর ছেলে রাসেল (২৩), রুবেলের ছেলে শুভ (২১), মৃত বুধাই সরকারের ছেলে শম্ভু সরকার(৬২), মৃত আব্দুল দেওয়ানের ছেলে মানিক দেওয়ান (৫৫), আলামিন দেওয়ান (৪০), হাজী হান্নানের ছেলে কাউসার (৩৮) সহ হামলাকারী তমিজ উদ্দিন (৬০) গংয়ের কয়েকজন আহত হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে আসা শম্ভু সরকারকে আলমগীরের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে শম্ভু সরকারকে চাপাতি দিয়ে তার বাম পায়ের রগ কেটে গুরুত্বর আহত করা হয়। পরে মাথায় সামান্য আঘাত ও বুকে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হওয়া আলমগীরসহ আহতদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকা নেওয়ার পথে আলমগীরের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আলমগীরের স্বজনরা ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করে হাজী হান্নানের মার্কেটে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করে নিয়ে রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি রেজিষ্টারে দেখা যায়,আলমগীর মাথায় সামান্য আঘাত ও বুকে ব্যথা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে এক্স-রে করানোর কথা বলেন এবং পরে ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার ডাঃ কান্তা দাস জানান, আলমগীর মাথায় সামান্য আঘাত ও বুকে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিল। পরে তার এক্স-রে সহ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালাশুর চৌরাস্তাস্থ কামারগাঁও মৌজার আরএস- ৪০১১ দাগের ৪২ শতাংশ সম্পত্তি হতে ৭.৬৮ শতাংশ সম্পত্তি হাজী হান্নানের স্ত্রী রহিমা খাতুন ক্রয় সুত্রে মালিক হয়ে ভোগদখলে থাকাবস্থায় মধ্য কামারগাঁও এলাকার মৃত আনিছ শেখের ছেলে তমিজ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর,আলমগীর ও তারেক শেখগং জোড় পুর্বক ঐ সম্পত্তি দখল করে একটি বহুতল মার্কেটের নির্মান কাজ শুরু করে। পরে রহিমা খাতুন বাদী হয়ে বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালতে পিটিশন মোকদ্দমা নং-৪৯০/২৫ দায়ের করেন। তমিজ উদ্দিনগং বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন বিভিন্ন সময়ে বল প্রয়োগের মাধ্যমে পূনরায় মার্কেটের নির্মাণ শুরু করে। এতে ভুক্তভোগীরা বাধা নিষেধ করলে তাদেরকে মারধরসহ কাজে বাধা দিতে আসলে খুন জখমের আসছে তমিজ উদ্দিনগং। এনিয়ে বিজ্ঞ আদালতে দেওয়ানী ও ফৌজধারী মামলা চলমান রয়েছে। 

ঘটনারদিন গত মঙ্গলবার ভোরে রহিমা খাতুন পক্ষ ক্রয় সম্পত্তিতে একটি দোকান ঘর নির্মান করতে গেলে তমিজ উদ্দিনসহ ছেলে তারেক,ভাই আলমগীর, জাহাঙ্গীর,তানসেরসহ ২০-৩০ জনের একটি দল হাতে ধারালো দা,রামদা,ছেন, লোহার রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিলন,কাউসার,মানিক, আলামিন, রাসেল ও শুভদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদেরকে এলোপাথারী কুপিয়ে মাথা,হাতের কবজ্বি কর্তনসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর ও হাড় ভাঙ্গা জখম করে এবং এতে প্রতিপক্ষের তমিজউদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হয়। সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা উভয় পক্ষের আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেইটের সামনে আহতদের দেখতে আসা শম্ভু সরকারকে পেয়ে আলমগীরের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় শম্ভুর উপর হামলা চালিয়ে তার বাম পায়ের রগ কেটে দেয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত আলমগীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে শম্ভু নামে একজনকে কুপিয়ে আহত করে। পরে নিজে বুকে ব্যথা অনুভব করছে জানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এসময় তার শরীরে কোন আঘাতে চিহ্ন দেখা যায়নি। পরে ঢাকা নেয়ার পথে আলমগীর মারা গেছে শুনতে পাই। মারপিটে আলমগীর মারা গেছে এমন কোন ঘটনা দেখতে পাইনি।

মামলা তদন্তকারী অফিসার শ্রীনগর থানার এসআই কামরুজ্জামান বলেন। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow