চিরনিদ্রায় উসুইমং মারমা প্রিয়জনকে হারিয়ে স্তব্ধ স্বজনরা
এক বুক স্বপ্ন আর পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকা উসুইমং মারমা (৪৫) আর নেই। দীর্ঘ রোগভোগের পর জীবনের কাছে হার মেনে শনিবার (৭ই ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে উসুইমং মারমা একবার স্ট্রোকের কবলে পড়েছিলেন। শারীরিক সেই প্রতিকূলতা জয় করে তিনি কঠোর মনোবল নিয়ে লড়ে যাচ্ছিলেন জীবনসংগ্রামে। তবে গত প্রায় এক মাস আগে থেকে নিয়তি যেন অন্যভাবে লেখা ছিল। টানা তিন দিন প্রচণ্ড জ্বরের পর তার ডায়রিয়া শুরু হয়। এতে তিনি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েন এবং খাবারের রুচি হারিয়ে ফেলেন।
গত ২রা ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তাকে দ্রুত কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ৬ই ফেব্রুয়ারি রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ওই দিন রাত ১টা ২৫ মিনিটে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে পরদিন সন্ধ্যায় তিনি পরপারে পাড়ি জমান।
উসুইমং মারমার এমন অকাল প্রস্থানে কাপ্তাইয়ের স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি বৃদ্ধা মা, ভাই-বোন ও একমাত্র পুত্রসন্তান সুইঅং মারমাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার ছেলে সুইঅং মারমা বর্তমানে কর্ণফুলী কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র। বাবার এমন আকস্মিক বিদায়ে এই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন দিশেহারা।
উসুইমং মারমার প্রস্থান পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সকলের কাছে প্রার্থনা ও আশীর্বাদ চেয়েছেন।
What's Your Reaction?
রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ