ভোট জালিয়াতির চিন্তা করলেই বহিষ্কার: দলীয় নেতাকর্মীদের শ্যামলের কড়া হুঁশিয়ারি
আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রকার ভোট জালিয়াতি বা অনিয়মের চিন্তা করলে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ ভোট ছাপানোর চেষ্টা করলে বা সাধারণ ভোটারদের বাধা দিলে তাকে দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে।
শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ পৈরতলায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, “আমরা চাই মানুষ যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে। আমাদের কোনো অতি উৎসাহী নেতাকর্মী যদি জনগণের ভোটাধিকারে বাধা প্রদান করে কিংবা ভোট ছাপানোর কথা মাথায় আনে, তবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক শাস্তিসহ দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভোট ডাকাতির কারণেই আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। আজ যদি আমরাও একই অপরাধে লিপ্ত হই, তবে তিন দিন পর আমাদেরও আওয়ামী লীগের মতো করুণ পরিণতি বরণ করে বিদায় নিতে হবে। এই সত্যটি আমাদের নেতাকর্মীদের সবসময় মনে রাখতে হবে।”
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু আমাদের তো ভারতেও জায়গা নেই। আমাদের তখন বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দিতে হবে। আমরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে চাই না; আমরা চাই জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে।”
পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন এবং সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিসহ দলের অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
What's Your Reaction?
জান্নাত আক্তার, সদর উপজেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ