সরাইলে সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন আবারও যদি ভোটে দাঁড়াতে হয়, কাজই হবে একমাত্র ভরসা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীকে বিজয়ী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জয়ের পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তার জন্য সহজ ছিলোনা। তাঁর চেয়েও বেশি কঠিন সময় পার করেছেন তার নেতা-কর্মীরা।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তারা ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছেন, অনেকে ঘরে থাকতে পারেননি, বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমি না জিতলে হয়তো আবার ঢাকায় ফিরে পেশায় যোগ দিতাম। কিন্তু আমার কর্মীরা কোথায় যেতো? তাদের এই ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করবো?
তিনি শুক্রবার দুপুরে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরের নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপস্থিত হন, উপস্থিত হন তার প্রতীক হাঁস নিয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা ভোট গ্রহনে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, দুপুরের পর কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির চেষ্টা হয়েছে এবং ফলাফল বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে হলে কাজের বিকল্প নেই। আবার যদি ভোটে দাঁড়াতে হয়, কাজই হবে একমাত্র ভরসা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতীকের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনের অভ্যাস ছিল তার। পারিবারিক কারণে এক সময় শহুরে জীবনে চলে গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে আবার সেই শখে ফিরেছেন। অবসর সময় কাটান হাঁস-মুরগির সাথে। এই আবেগ থেকেই তিনি নির্বাচনে ‘হাঁস’ প্রতীক বেছে নেন।
সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা আরো বলেন, দল যদি তাকে ফেরাতে চায়, তবে তার সাথে দলের বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীদেরকেও দলে ফিরিয়ে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২- আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব খেজুর গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। জোটের স্বার্থে আসনটি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এ অবস্থায় দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। পরে তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়।
What's Your Reaction?
জায়শা জাহান মিমি, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ