আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে সরকারি রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ, সংস্কারে পুলিশের ৩ দিনের আল্টিমেটাম

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৫৭ পিএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে সরকারি রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ, সংস্কারে পুলিশের ৩ দিনের আল্টিমেটাম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে একটি সরকারি সড়কের ইট তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা গোলাম কুদ্দুসের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের বিরুদ্ধে। নদীকূল ঘেঁষা প্রায় ৪০০ মিটার সড়ক থেকে আনুমানিক এক লাখ ইট তুলে ট্রলারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১ নম্বর বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় নদী ঘেঁষা একটি সরকারি রাস্তার ইট গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়। এলাকাবাসীর দাবি, সড়কের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার অংশ থেকে আনুমানিক এক লাখ ইট তুলে ট্রলারে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি তুলে নেওয়া ইটের একাংশ স্থানীয় কয়েকটি বাড়িতেও মজুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এলাকাবাসীর পক্ষে বাবুল শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে মাওলানা গোলাম কুদ্দুসকে প্রধান করে মোট ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা গোলাম কুদ্দুস বলেন, “যাঁরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা আমার লোক। তবে পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না এবং এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” 

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, “গোলাম কুদ্দুস আমাদের দলের একজন সমর্থক। তবে আমরা যতটুকু খোঁজ নিয়েছি, তাতে জেনেছি এই ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু বলেন, “রাস্তাটি এলাকাবাসীর দৈনন্দিন চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেখান থেকে রাতের আঁধারে ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার মণ্ডল জানান, “অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাস্তা ঠিক না করা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. আল-আমিন বলেন, “অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টদের তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কার না করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।