নেই আইফোন, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন

অনলাইন ডেস্কঃ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৫২ পিএম
শেয়ার করুন:
নেই আইফোন, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন

মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজের একদিন পর ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি টিলার জঙ্গল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোনটি নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর সে বাড়ি ফেরেনি এবং ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। 

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম জানান, কোটবাড়ি এলাকায় বড় হওয়ায় এখানকার প্রতিটি পথঘাট তার ছেলের চেনা ছিল। ফলে সে পথ হারিয়ে নিখোঁজ হতে পারে—এমন কোনো কারণ ছিল না। 

নিখোঁজের পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় আইফোনটির সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত করে। পরবর্তীতে শনিবার সকালে স্থানীয় একটি জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা আইফোনটি পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পর বা কোনো পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, "মরদেহের মাথায় গুরুতর ও গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে এক যুবককে দেখা গেছে। তাকে শনাক্ত ও আটকের জোর চেষ্টা চলছে।"

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এক কিশোরের এমন নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।