জুলাই জাদুঘর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস সরিয়ে ফেলেছে বিএনপি: আসিফ মাহমুদ

অনলাইন ডেস্কঃ
৮ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৩২ পিএম
শেয়ার করুন:
জুলাই জাদুঘর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস সরিয়ে ফেলেছে বিএনপি: আসিফ মাহমুদ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসসংবলিত গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীগুলো সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাদুঘরটির উদ্বোধনের আগেই এসব পরিবর্তন করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ জানান, জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্ত হত্যার বিভিন্ন আলামত ও নথি সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষিত ‘বর্ডার কিলিং রুম’ নামের একটি পুরো বিভাগই তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত হত্যায় শহীদ ফেলানীর স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত ভাস্কর্যটিও জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এনসিপি মুখপাত্রের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এবং ‘ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মোদিবিরোধী আন্দোলন’-এর ইতিহাসসংবলিত প্রদর্শনীও বাদ ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে (ডিএসএ) নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের ইতিহাস ও আলামত তুলে ধরা সেকশনটি সংকুচিত করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, জাদুঘরের ঐতিহাসিক উপাদান উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আপস করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাহিদ ইসলামের জাদুঘর পরিদর্শন ও ক্ষোভ প্রকাশ

এর আগে শনিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। পরিদর্শন শেষে তিনিও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, “জাদুঘরে সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডের স্মরণে একটি ভাস্কর্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব উপাদান সেখানে দেখা যাচ্ছে না।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো একক দলীয় বয়ানে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এখানে ঢাকার বাইরের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং শহীদদের ত্যাগ ব্যাপকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। বিডিআর হত্যাকাণ্ড, সীমান্ত হত্যা এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো জাতীয় ইতিহাসের অংশ হিসেবেই রাখা উচিত ছিল।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের সার্বজনীন ইতিহাস সংকুচিত করে জাদুঘরে কেবল গত ১৬ বছরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর চলা নির্যাতনের ইতিহাসসংবলিত বিষয়বস্তু বাড়ানো হয়েছে। 

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “জুলাই জাদুঘর একটি চলমান জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এটিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ইতিহাস চর্চার কেন্দ্র না বানিয়ে সর্বজনীন ও সমৃদ্ধ জাতীয় ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।