ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয় ঘোষণা করে কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ

অনলাইন ডেস্কঃ
১ জুলাই, ২০২৬ ২:২৩ পিএম
শেয়ার করুন:
ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয় ঘোষণা করে কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ

চট্টগ্রামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর জৈবিক পিতা হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত কিশোরের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অভিযুক্তকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) চট্টগ্রামের শিশু আদালত-২-এর বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। 

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মামলা:
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২১ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানা এলাকায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ছুরির ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে তার প্রতিবেশী এক কিশোর। ঘটনার সময় অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের কম থাকায় আইনের চোখে সে শিশু হিসেবে গণ্য ছিল। এই ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। দুর্ভাগ্যবশত, প্রায় দেড় বছর বয়সে শিশুটি মারা যায়।

ডিএনএ পরীক্ষায় সত্যতা নিশ্চিত:
মামলার বিচার চলাকালে আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত কিশোর, ভুক্তভোগী কিশোরী এবং মৃত শিশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর তা ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় যে, অভিযুক্ত কিশোরই ওই মৃত শিশুর জৈবিক পিতা।

আইনি ধারা ও আদালতের সাজা:
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, অপরাধটি অত্যন্ত গুরুতর হলেও ঘটনার সময় অপরাধী অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) ছিল। শিশু আইন, ২০১৩-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো শিশুকে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন ৩ বছর মেয়াদে আটকাদেশ দেওয়া যায়। 

বর্তমানে অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছর পার হওয়ায় এবং বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাজা হওয়ায়, শিশু আইনের ৩৪(৫) ধারা অনুযায়ী তাকে সরাসরি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কারাগারে তাকে সাধারণ বন্দিদের থেকে আলাদা ওয়ার্ডে রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

পিতৃপরিচয় ও ভরণপোষণের নির্দেশনা:
ধর্ষণের ফলে শিশুর জন্ম হওয়ায় আদালত 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০'-এর ১৩ ধারার অধীনে বিশেষ আদেশ দিয়েছেন। আইনের ১৩(১)(খ) ধারা অনুযায়ী আদালত ঘোষণা করেন, মৃত শিশুটি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সন্তান হিসেবেই পরিচিত হওয়ার যোগ্য এবং নথিপত্রেও তা সেভাবেই লিপিবদ্ধ হবে।

শিশুর ভরণপোষণের বিষয়ে আদালত উল্লেখ করেন, আইনের ১৩(২) ধারা অনুযায়ী ভরণপোষণের অর্থের পরিমাণ সরকার নির্ধারণ করবে। এছাড়া ১৩(৩) ধারা অনুযায়ী, প্রয়োজনে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ভবিষ্যৎ সম্পদ থেকেও এই অর্থ আদায় করা যাবে। 

এই অর্থ নির্ধারণ ও আদায়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত এই অর্থ ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী কিশোরীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।