মুন্সীগঞ্জে শিশু রামিসা হত্যা: কবরের পাশে অপলক দৃষ্টিতে বৃদ্ধ দাদা, বিচার দাবিতে উত্তাল এলাকা
ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার শিকার ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসার দাফন সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু থামছে না তার পরিবারের আহাজারি। শোকের ছায়া কাটছে না পুরো গ্রামে। স্বজনরা ঢাকায় ফিরে গেলেও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে এখনো নাতনির কবরের পাশে অপলক দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে আছেন ৯০ বছর বয়সী দাদা মজিবর রহমান মোল্লা।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য খোঁড়া কবরের মাটি এখনো ভেজা। কবরের পাশে মাথা নুইয়ে আছে একটি সূর্যমুখী ফুল গাছ, যা যেন চারপাশের শোকের ভারই বহন করছে। নীরব পরিবেশে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ দাদার চোখেমুখে ফুটে উঠেছে এক গভীর অসহায়ত্ব আর অবর্ণনীয় শোকের ছাপ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে জানাজা শেষে রামিসাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে রামিসার বাবা-মা ঢাকায় ফিরে গেলেও তার চাচাতো দাদা মজিবর রহমান মোল্লা এখনো নাতনির কবরের পাশ ছাড়েননি।
রামিসার চাচাতো ভাই রানা মোল্লা জানান, রামিসার পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকে। তার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈদ-পার্বণে তারা গ্রামে আসতেন। তিনি বলেন, “রামিসা খুব চঞ্চল ও প্রাণবন্ত ছিল। বাড়িতে এলেই সবার সঙ্গে মিশে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখত। আমরা এই নিষ্পাপ শিশুকে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।”
এদিকে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা। ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জামায়াতে ইসলামী সিরাজদিখান উপজেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। এছাড়া বিকেল ৫টায় জাতীয় পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা সিরাজদিখান বাসস্ট্যান্ড মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। তার এমন নৃশংস মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম, আর গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের সুর। এলাকাবাসীর দাবি, অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
What's Your Reaction?
এমএ কাইয়ুম মাইজভান্ডারি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জঃ