নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: স্বামী-সন্তানদের পর চলে গেলেন সালমাও, পরিবারের কেউই বেঁচে রইল না

অনলাইন ডেস্কঃ
May 15, 2026 - 14:46
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: স্বামী-সন্তানদের পর চলে গেলেন সালমাও, পরিবারের কেউই বেঁচে রইল না

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন গৃহবধূ সালমা আক্তারও। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর মাধ্যমে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দগ্ধ পরিবারের পাঁচ সদস্যের প্রত্যেকেরই মৃত্যু হলো; নিভে গেল পুরো একটি পরিবারের জীবনপ্রদীপ। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) মৃত্যু হয় ৩০ বছর বয়সী সালমার। তাঁর শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। 

এর আগে গত রোববার (১০ মে) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় ‘গ্রাম বাংলা টাওয়ারের’ পাশের একটি বাড়িতে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল পুরো পরিবারটি। গত সোমবার (১১ মে) প্রথমে মারা যান সালমার স্বামী সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম (৩৫)। এরপর বুধবার মৃত্যু হয় তাঁদের চার বছরের ছোট মেয়ে কথার। বিভীষিকা যেন কাটছিলই না—গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ১২ বছর বয়সী ছেলে মুন্না এবং দুপুরে ৭ বছরের মেয়ে মুন্নিও পাড়ি জমায় না ফেরার দেশে। আজ সকালে মা সালমার বিদায়ের মাধ্যমে পরিবারটির কোনো সদস্যই আর পৃথিবীতে বেঁচে রইল না। 

স্থানীয় প্রতিবেশী ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে সবজির আড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আবুল কালাম। রান্নাঘরে তরকারি গরম করার জন্য দিয়াশলাই জ্বালানো মাত্রই জমে থাকা গ্যাস থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসেন। 

নিহত আবুল কালামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বালুকদিয়ে গ্রামে। তাঁর স্ত্রী সালমা আক্তার ছিলেন বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মেয়ে। জীবিকার প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করা এই শ্রমজীবী পরিবারের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান এই দুঃখজনক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, দগ্ধ সবার অবস্থাই অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার পরও কাউকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow