পর পর তিন কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: ৯ বছর পর স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড, পুড়িয়ে মারার সময় স্ত্রীর গর্ভে ছিল যমজ ছেলে
পর পর তিন কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় ক্ষোভে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মামুনকে (৪০) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ ৯ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জননিরাপত্তাবিষয়ক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাহাব উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।
মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ২৩ মে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাচিয়াপাড়ার গুচ্ছগ্রামে। মামলার নথিতে জানা যায়, পুত্রসন্তান না হওয়ায় স্ত্রী রাবেয়া বেগমের (৩৫) ওপর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল মামুনের। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ঝগড়ার একপর্যায়ে মামুন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে প্রচণ্ড মারধর করেন এবং পেটে লাথি মারেন। এতে রাবেয়া গুরুতর আহত হলে রাতে তাকে রিকশাভ্যানে করে একটি নির্জন খালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাবেয়ার গায়ে কেরোসিন ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেন পাষণ্ড স্বামী মামুন।
পরদিন রাবেয়ার দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তে এক হৃদয়বিদারক তথ্য বেরিয়ে আসে। চিকিৎসকরা জানান, নিহত রাবেয়া বেগমের গর্ভে যমজ সন্তান ছিল এবং তারা দুজনই ছিল পুত্রসন্তান। যে পুত্রসন্তানের আশায় মামুন স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন, রাবেয়া সেই পুত্রসন্তানদের নিয়েই না-ফেরার দেশে চলে যান।
আদালতের রায়ে মামুনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার অপর আসামি মামুনের চাচা ইমাম হাফেজকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন জানান, মামুন সাড়ে ছয় বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। তবে মামলার যুক্তিতর্ক শুরুর পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। আদালত তার অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, খালাস পাওয়া ইমাম হাফেজ রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০১৭ সালে রাবেয়ার ভগ্নিপতি কামাল পাশার করা এই হত্যা মামলায় দীর্ঘ ৯ বছর পর বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। তারা এখন পলাতক মামুনের দ্রুত গ্রেপ্তার ও রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ