পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ: নতুন কড়াকড়ি আরোপ করল বিজেপি সরকার

অনলাইন ডেস্কঃ
May 14, 2026 - 13:31
পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ: নতুন কড়াকড়ি আরোপ করল বিজেপি সরকার

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পরপরই পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর আইনি বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে বিজেপি সরকার। নতুন এক সরকারি নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে রাজ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু প্রকাশ্যে জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক।

কী আছে নতুন নির্দেশনায়?  
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুমোদিত কসাইখানা বা নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য কোথাও—বিশেষ করে জনসমাগমস্থলে পশু জবাই করা যাবে না। এছাড়া, জবাইয়ের আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারি পশু চিকিৎসকের দেওয়া বিশেষ 'ফিটনেস সনদ' বা সুস্থতার প্রমাণপত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আইন গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর ছাড়াও পুরুষ ও স্ত্রী মহিষের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

জবাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্তাবলি:  
নির্দেশনায় পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়স ও শারীরিক অবস্থার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সনদ পাওয়ার জন্য পশুটিকে অবশ্যই নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে:  
১. পশুর বয়স অন্তত ১৪ বছর হতে হবে।  
২. বয়স বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে পশুটি প্রজনন বা কাজের জন্য স্থায়ীভাবে অক্ষম হতে হবে।  

পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথভাবে এই সনদ প্রদান করবেন। কোনো কারণে সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

শাস্তি ও পর্যবেক্ষণ:  
আইন অমান্যকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপি জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। নিয়ম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন এবং এই কাজে বাধা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: 
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। উল্লেখ্য যে, ওই নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতায় আসার পরপরই সরকারের এমন সিদ্ধান্ত রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তির ফলে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow