আলফাডাঙ্গায় পাট চাষিদের দিনব্যাপী আধুনিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
‘পলিথিনের ব্যবহার পরিহার করি, পাট পণ্যের বাংলাদেশ গড়ি’ এবং ‘সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পাট পণ্যের বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পাট চাষিদের নিয়ে দিনব্যাপী আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং পাট অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন “উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ” প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ লৎফুল আমিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা এবং পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ উমর আলী।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন পাট অধিদপ্তর ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান এবং উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রাফিজুল হাসান।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাট চাষিরা অংশগ্রহণ করেন। বিশেষজ্ঞরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাট চাষ পদ্ধতি, উন্নতমানের পাটবীজ ব্যবহার, পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল এবং পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার ও সম্প্রসারণ নিয়ে চাষিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির বলেন, "পাট আমাদের ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের প্রাণ। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে প্রকৃতিকে বাঁচাতে সরকার পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের কৃষকরা যদি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ করেন, তবে পাটের সোনালী দিন আবারও ফিরে আসবে।"
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, "আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষ করলে কৃষকরা যেমন অধিক লাভবান হবেন, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাটের সোনালী ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।"
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাষিরা আধুনিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হবেন, যা পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বহুমুখী ব্যবহারে সহায়ক হবে।
---
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ