চৌমুহনীতে চাঁদা না দেওয়ায় কুলি সর্দ্দারকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত, অবস্থা আশঙ্কাজনক
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আবুল কাশেম (৫০) নামের এক কুলি সর্দ্দারকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেছে একদল চাঁদাবাজ। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে চৌমুহনী রেল স্টেশন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আবুল কাশেম স্থানীয় কুলি শ্রমিকদের সর্দ্দার হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, সোমবার দুপুরে আবুল কাশেম চৌমুহনী রেল স্টেশন রোডে কাজ করছিলেন। এসময় স্থানীয় করিমপুর গ্রামের নেত্রকোনা এলাকার মুন্সি মিয়ার ছেলে সবুজ (২৫) তার সহযোগীদের নিয়ে কাশেমের কাছে ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আবুল কাশেম চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সবুজ ও তার সাথে থাকা ৩-৪ জন সন্ত্রাসী ধারালো ছুরি দিয়ে কাশেমের কোমর ও পিঠে উপুর্যপুরি আঘাত করতে থাকে।
তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত বেগমগঞ্জ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
এদিকে, এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে চৌমুহনী পৌরসভা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে চৌমুহনী স্টেশন রোড, পোস্ট অফিস রোড, রেজিস্ট্রি অফিস বাউন্ডারি, কলেজ রোড, মন্ডল পাড়া, হাজীপুর, করিমপুর রোড ও চৌরাস্তা বাজার এলাকায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
চৌমুহনী শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং চাঁদাবাজদের হাত থেকে সুরক্ষা পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা।
What's Your Reaction?
রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ