কাপ্তাইবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নিলেন ইউএনও মো. রুহুল আমিন
কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কর্মদক্ষতা ও মানবিকতায় সাধারণ মানুষের মন জয় করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিনের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিদায় সভা নয়, বরং কাপ্তাইবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল গণসংবর্ধনায় রূপ নেয়।
সম্মিলিত বিদায় উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এবং ওয়াগ্গা টি লিমিটেডের পরিচালক খোরশেদুল আলম কাদেরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নুর মোহাম্মদ বাবু ও সাংবাদিক ঝুলন দত্ত। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন।
বক্তারা ইউএনও রুহুল আমিনের দায়িত্বকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তারা বলেন, "তিনি শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন কাপ্তাইয়ের মানুষের বিপদে-আপদে এক পরম বন্ধু। তাঁর জনবান্ধব উদ্যোগ, প্রশাসনিক সততা এবং সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার অসাধারণ গুণ আমাদের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।"
বিদায় বেলায় প্রিয় এই কর্মকর্তাকে শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান রুবেল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. রহমতউল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহম্মদ ও উপজেলা জামায়াতের আমীর হারুন-অর-রসিদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং, কাপ্তাই বিএফআইডিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক তীর্থ জিৎ রায় এবং উপজেলা সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম লাভলু, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, জয়সেম বড়ুয়া এবং হেডম্যান থোয়াই অং মারমাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বিদায়ী ইউএনও-র প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিদায়ী বক্তব্যে মো. রুহুল আমিন অত্যন্ত আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, "সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাপ্তাইবাসীর যে অকৃত্রিম ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা আমার কর্মজীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। কাপ্তাই আমার হৃদয়ে সবসময় একটি বিশেষ স্থান দখল করে থাকবে। এখানকার মানুষের সহযোগিতা আর ভালোবাসা ছাড়া আমার পক্ষে সফলভাবে কাজ করা সম্ভব হতো না।" তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেখানেই দায়িত্ব পালন করি না কেন, কাপ্তাইয়ের এই অমলিন স্মৃতি আমাকে দেশসেবায় আজীবন প্রেরণা জোগাবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইউএনও-কে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়। বিদায়ের এই ক্ষণে মিলনায়তনে উপস্থিত অনেকের চোখেই অশ্রু দেখা যায়। প্রিয় কর্মস্থলের মায়া কাটিয়ে বিদায় নিলেও, কাপ্তাইবাসী মনে করেন, মো. রুহুল আমিন তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে তাদের হৃদয়ে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন।
What's Your Reaction?
রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ