মা ও নবজাতক সুস্থঃ ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে সফল সিজারিয়ান অপারেশন। ডাঃ সুইটির প্রশংসা
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও সফল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মা ও নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করে প্রশংসায় ভাসছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. খাদিজা সিদ্দিক সুইটি।
স্থানীয়দের কাছে আস্থার নাম হয়ে ওঠা এই চিকিৎসক শুধু পেশাগত দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ নন তিনি বহু নারীর কাছে ভরসা ও আশার প্রতীক। তার নিরলস পরিশ্রমে উপজেলার অসংখ্য মা ও নবজাতকের মুখে ফুটেছে হাসি।
ডাঃ খাদিজা সিদ্দিক সুইটির জীবনসঙ্গী ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, যিনি একজন দায়িত্বশীল ঝালকাঠি জেলার সিভিল সার্জন। চিকিৎসা সেবাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে এই দম্পতি দিন-রাত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
গভীর রাতে গুরুতর অবস্থায় এক গর্ভবতী নারী হাসপাতালে এলে, ক্লান্তি উপেক্ষা করে ছুটে যান ডা. সুইটি। দক্ষতার সঙ্গে সফল অপারেশনের মাধ্যমে মা ও শিশুর জীবন রক্ষা করেন তিনি। পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন তার স্বামীও। এই ঘটনাই স্থানীয়দের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে হাসপাতালে দুটি সিজারিয়ান অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।ফুলবাড়ীয়ার জাকিয়া (১৯),ভালুকজানের রিমা (২০)দুজনই সুস্থভাবে সন্তান প্রসব করেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ রয়েছেন। অপারেশনের পর নবজাতকদের পরীক্ষা করেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রসূন কান্তি রায়।
এই সফলতায় সহযোগিতা করেন এনেস্থিসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাঃ মো. মমিনুল ইসলাম,মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াদিয়া ইসলাম,ওটি ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স ফজিলা।
রোগীর অভিভাবক শিহাব শিকদার বলেন, আমরা খুবই সন্তুষ্ট। ডাক্তার আপা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে অপারেশন করেছেন। মা ও বাচ্চা দুজনই ভালো আছে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
গাইনি বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. খাদিজা সিদ্দিক সুইটি বলেন,রোগীদের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়। আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
এনেস্থিসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মমিনুল ইসলাম বলেন,নিরাপদ এনেস্থিসিয়া নিশ্চিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা টিম হিসেবে সমন্বয়ের মাধ্যমে রোগীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছি।
সমাজসেবকরা জানান, ডা. সুইটি একজন দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক। তার কারণে অনেক অসহায় মানুষ কম খরচে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন, যা আগে শহরে যেতে হতো।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসেন বলেন, চিকিৎসক ও স্টাফদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের হাসপাতালের সেবার মান দিন দিন উন্নত হচ্ছে।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে গাইনি, শিশু, সার্জারি, মেডিসিনসহ বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এই হাসপাতাল একদিন দেশের সেরা হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
What's Your Reaction?
মোঃ শফিকুল ইসলাম, ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি, ময়মনসিংহঃ