এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
May 23, 2026 - 18:39
এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর মিরপুরে নির্মমভাবে নিহত শিশু রামিসার হত্যাকারীকে আগামী এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (২৩ মে) বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ দুই দশক পর ত্রিশালে জাতীয়ভাবে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী পালন করতে পেরে বর্তমান সরকার গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "মিরপুরে একটি নিষ্পাপ শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা আমাদের সমাজের মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের প্রমাণ। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বর্তমান সরকার নারী কিংবা শিশু নির্যাতনের মতো কোনো অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। রামিসার এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে এবং সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।"

সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমাদের কেবল রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনলেই চলবে না, সেই সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জীবন ঘটাতে হবে। এই ক্ষেত্রে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।"

বক্তব্যে জিয়া পরিবারের সাথে জাতীয় কবির স্মৃতির ঐতিহাসিক বন্ধন তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৭৬ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির জানাজার পর তাঁর মরদেহ বহনকারী কফিন যারা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের মে মাসে কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালিতেও তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। 

ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জাতীয় কবির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে আমরা এটাই প্রমাণ করেছি যে, অন্যকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না, বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে। আমরা এই কালজয়ী আদর্শগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছি বলেই সমাজে আজ নানা অবক্ষয় দৃশ্যমান হচ্ছে।"

জাতীয় কবির স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগকে একটি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল স্মৃতি’ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, তার সম্ভাব্যতা দ্রুত যাচাই করতে হবে। 

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow