বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিয়ে শুভেন্দুর নজিরবিহীন নির্দেশ
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দমনে নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সকে (আরপিএফ) নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে রাজ্যে আটক হওয়া ‘অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ আর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হবে না। এর পরিবর্তে তাদের সরাসরি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে দ্রুত তাদের পুশব্যাক বা বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
নতুন এই নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো:
দ্রুত বহিষ্কার: যেসব অভিবাসী ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের আটক করা হলে আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল সীমান্ত কিংবা বসিরহাট বিএসএফ আউটপোস্টে নিয়ে যেতে হবে।
সাপ্তাহিক প্রতিবেদন: এই প্রক্রিয়ার ওপর একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদন রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরে (সিএমও) পাঠাতে হবে।
কার্যকরী সময়: গত ২০ মে থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার হাওড়ায় সাংবাদিকদের জানান মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আলোচিত ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্ত করো, বাদ দাও এবং বহিষ্কার করো) নীতিরই প্রতিফলন। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্ত সুরক্ষার ইস্যুটি বিজেপির জয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অনুসৃত কৌশলের আদলেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাস হওয়া ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেইনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’-এর আলোকে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের গত বছরের নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আইনি জটিলতা ও বিতর্ক
এই নির্দেশনার ফলে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের ভেতরে কিছুটা বিতর্ক ও সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, ১৯৪৬ সালের ফরেইনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী কাউকে অবৈধ অভিবাসী ঘোষণার এখতিয়ার আদালতের। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরকার এই বিতর্কিত পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর মধ্যে সীমান্ত বেড়ার জন্য জমি প্রদান, উচ্ছেদ অভিযান, কোরবানির বিষয়ে বিধিনিষেধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীত বাধ্যতামূলক করার মতো বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি তাড়াতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে পুরোপুরি বদ্ধপরিকর, তা এই নির্দেশের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ