খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তরকারি মুখে নিয়েই ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ

অনলাইন ডেস্কঃ
May 20, 2026 - 17:24
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তরকারি মুখে নিয়েই ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ

খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শনকালে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ এবং জলাতঙ্ক (র‍্যাবিস) ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজীকে কঠোর ভর্ৎসনা করেন।

ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে জবাবদিহি
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের র‍্যাবিস ভ্যাকসিন কর্নারে ভুক্তভোগী রোগীরা মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম গাজী সরবরাহের অভাবের কথা জানালে মন্ত্রী সরাসরি ঢাকায় যোগাযোগ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভ্যাকসিন আনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষীয় কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেননি। দায়িত্বে এমন চরম অবহেলার প্রমাণ পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ
হাসপাতালের রান্নাঘর পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের জন্য রান্না করা কুমড়োর তরকারি নিজে পরখ করেন। খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গেই তা মুখ থেকে ফেলে দেন। এসময় তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন করেন, “এ ধরনের খাবার কি আপনারা নিজের বাসায় খেতে পারতেন?” পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি অবিলম্বে হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজে অগ্নিকাণ্ড
জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের আগে সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আজ সকাল ৬টার দিকে লাগা এই আগুন ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের সময় আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনদের ছোটাছুটির ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। মন্ত্রী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের অপারেশন থিয়েটারটিও পরিদর্শন করেন।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow