গাজীপুরে ৫ খুনের প্রধান অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ পদ্মা নদীতে উদ্ধার
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার পর অনুশোচনা বা গ্রেপ্তার এড়াতে পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়ার রাউতকোনা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাঁদের তিন শিশুকন্যা মিম (১৪), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল মিয়া (১৮)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই রাতে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে ফেলেন ফোরকান। এরপর গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে পাঁচজনকেই গলা কেটে হত্যা করে তিনি পালিয়ে যান। পরদিন শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ওই বাসা থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত ও মরদেহ উদ্ধার:
এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন এবং তাকে ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছিল। তদন্তের এক পর্যায়ে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যবহৃত একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় উদ্ধার করে সিআইডি। এর সূত্র ধরেই ধারণা করা হয়েছিল যে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
মামলা ও পারিবারিক পরিচয়:
হত্যাকাণ্ডের পর শনিবার সন্ধ্যায় নিহত শারমিনের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি প্রায় এক বছর ধরে কাপাসিয়ার ওই বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন।
পুলিশের মতে, পারিবারিক কলহ এবং পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ এর আগে আরও দুজনকে আটক করেছিল। ফোরকানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও ঘটনার নেপথ্যে আর কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ