সীমানা নির্ধারণের পর পুকুরপাড়ে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার মা-মেয়ের লাশ নেওয়া হলো ফরিদপুরে

অনলাইন ডেস্কঃ
May 15, 2026 - 11:58
সীমানা নির্ধারণের পর পুকুরপাড়ে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার মা-মেয়ের লাশ নেওয়া হলো ফরিদপুরে

নিখোঁজের ১১ দিন পর রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নিখোঁজ মা ও মেয়ের পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুর জেলার সীমানাধীন একটি পুকুরপাড় থেকে মাটি খুঁড়ে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই লাশ দুটি ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন—রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া এলাকার দিনমজুর আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) ও তাঁদের চার বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার। গত ৪ মে এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানির অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা নিখোঁজ হন।

সীমানা নিয়ে জটিলতা ও লাশ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালীতলা এলাকায় একটি পুকুরপাড়ে দুর্গন্ধ পান স্থানীয় কৃষকরা। সেখানে মাটি খুঁড়ে মানুষের পা বেরিয়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলটি রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার একদম সীমান্তে হওয়ায় লাশ উদ্ধার নিয়ে শুরুতে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়। পরে দুই জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আমিন (ভূমি পরিমাপক) ডেকে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। স্থানটি ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার অন্তর্ভুক্ত নিশ্চিত হওয়ার পর, গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ লাশ দুটি ফরিদপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

নেপথ্যে পরকীয়া ও নিখোঁজ রহস্য
নিহত জাহানারার স্বামী আমজাদ শেখ জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী সাভারের একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখানে রান্নার কাজ করার সময় উজ্জ্বল শেখ নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে জাহানারার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে আগে একাধিকবার সালিসও হয়েছে। গত ৪ মে স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর আমজাদ ধারণা করেছিলেন, জাহানারা টাকা-পয়সা নিয়ে উজ্জ্বলের সঙ্গে পালিয়েছেন। এই সন্দেহে তিনি পরদিন গোয়ালন্দ ঘাট থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।

সন্দেহভাজন আটক
লাশ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উজ্জ্বল শেখকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। উজ্জ্বল গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়নের বকারটিলা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং উজ্জ্বলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলটি ফরিদপুর জেলার সীমানায় হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া সেখানেই সম্পন্ন হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow