কুবি শিক্ষক অপহরণ ও ছিনতাইয়ের শিকার, মামলা দায়ের

দিনদুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষক অপহরণ ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। দুর্বৃত্

আলী আকবর শুভ, কুবি প্রতিনিধি, কুমিল্লাঃ
Mar 5, 2026 - 23:02
Mar 5, 2026 - 12:33
কুবি শিক্ষক অপহরণ ও ছিনতাইয়ের শিকার, মামলা দায়ের

দিনদুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষক অপহরণ ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা তাকে জোর করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে প্রায় এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

বুধবার দুপুরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম আবদুর রাজ্জাক সোহেল। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা করেছেন।

ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল দুপুরে তিনি ঢাকায় যাওয়ার জন্য কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার এসে তাকে জিজ্ঞেস করে তিনি ‘উবারে’ কল দিয়েছেন কি না। তিনি ‘না’ বলার পর তাকে টান দিয়ে গাড়িতে তুলে মুখ চেপে ধরা হয়। ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টের সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার ভয় দেখানো হয়।

এ সময় তার কাছে থাকা অ্যান্ড্রয়েড ফোন, মানিব্যাগে থাকা ১৫ হাজার টাকা এবং বিকাশ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে এটিএম কার্ডের পিন নম্বরও আদায় করে নেয় তারা। পরে দাউদকান্দির হাবিব মার্কেটের ভেতরের একটি এটিএম বুথ থেকে ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

পরবর্তীতে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর দাউদকান্দির একটি জনমানবহীন এলাকায় ভুক্তভোগীকে পিছনে না তাকানোর শর্তে নামিয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তরা ঢাকামুখী সড়ক ধরে চলে যায়।

ভুক্তভোগী কুবি শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল বলেন, “সারাদেশেই এখন মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন অপরাধ বেড়েই চলেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই, যাতে আর কারও সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে। আমরা নিরাপদে থাকতে চাই।”

তিনি জানান, ছিনতাইকারীর সংখ্যা ছিল চারজন এবং তাদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে বিশ্বরোড এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, “মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।” সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গাড়ি শনাক্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow