ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে মশক নিধনের পরিকল্পনা সম্ভব নয়: আসিফ মাহমুদ

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ জুন, ২০২৬ ১২:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে মশক নিধনের পরিকল্পনা সম্ভব নয়: আসিফ মাহমুদ

ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে মশক নিধনের পরিকল্পনা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ। 

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের সম্ভাব্য ফ্লোরিডা সফর বাতিল করে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ এই প্রতিক্রিয়া জানান।

ফেসবুক লাইভে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, “মশক নিধনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে অভিনব ধারণা পাওয়া যেতে পারে—প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। আমার কাছে এটি হাস্যকর মনে হয়েছে।”

আসিফ মাহমুদ বলেন, মশক নিধন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত পদ্ধতি নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন। তিনি জানান, ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে এমন বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা মশার ডিম ও লার্ভাকে লক্ষ্য করে কাজ করে; কিন্তু অন্যান্য প্রাণী ও পরিবেশের ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে।

দেশে প্রচলিত ফগিং পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে ভাবার সুযোগ আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশার জীবনচক্রের নির্দিষ্ট পর্যায়কে লক্ষ্য করে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। মশক নিধন একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়। নতুন প্রযুক্তি বা কার্যকর সমাধান গবেষণাগার ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসে। ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের সমাধান পাওয়া যায় না। সুযোগ পেলে পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়—এমন পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে এনসিপি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করছে বলেও তিনি জানান।

### ঘটনার প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও ল্যাব পরিদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও শিকাগো রাজ্যে যেতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তা। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের এই বিদেশ সফরের ফাইল অনুমোদন না করে তা নাকচ করে দেন। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মশা মারা শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। ফাইল নাকচ করার সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্দেশনায় লিখেন, “মশকনিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যেকোনো ডোবার পাশে দু-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশকনিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বন্ধে এবং জনস্বার্থের বিষয়টি নতুনভাবে বিবেচনার একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

চসিক সূত্র জানায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি’-এর অর্থায়নে চসিকের এই প্রতিনিধিদলটির যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তাব ছিল। প্রতিনিধিদলে মেয়র শাহাদাত হোসেন ছাড়াও চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলামের থাকার কথা ছিল। সফরের প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হলে তা বাতিল করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।