এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অফলাইন ও অনলাইনে দুই দিনব্যাপী তহবিল সংগ্রহ করে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। ওই অর্থ দিয়ে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী সম্বলিত ত্রাণ প্যাকেট প্রস্তুত করে দুর্গত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের দুটি স্বেচ্ছাসেবী দল দিনব্যাপী ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল আলু, পেঁয়াজ, আটা, মুড়ি, চিড়া, চিনি, সয়াবিন তেল, বিস্কুট, ওরস্যালাইন (ওআরএস) এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধ।
স্বেচ্ছাসেবীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে সাতকানিয়া উপজেলার রামপুর, ভূতপাড়া ও তেমুহনী এবং বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা, বাঁশখালা ও ছাপাছড়ি এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেন। দিনব্যাপী কার্যক্রম শেষে বুধবার রাতে তারা নিরাপদে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন।
ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহেদ নাঈম বলেন, “দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে আমরা একটি ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করি। প্রথম দুই দিনের মধ্যেই প্রায় দেড় লাখ টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। এ অর্থ দিয়ে পেঁয়াজ, আটা, চিনি, চিড়া, আলু, বিস্কুট ও অন্যান্য শুকনো খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাজনিত ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধও সরবরাহ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাঁশখালী, সাতকানিয়ার কয়েকটি ইউনিয়ন ও আনোয়ারা অঞ্চল কভার করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি পরিবারের কাছে এসব সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”
ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসাইবা চৌধুরী বলেন, “নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ক্লাব ও প্রশাসনের সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া মাত্র দেড় দিনে এত বড় তহবিল সংগ্রহ সম্ভব হতো না। আমরা এমন সব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যেখানে এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছায়নি এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ছিল সবচেয়ে বেশি।”
তিনি জানান, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় গিয়ে তারা ত্রাণ বিতরণ করেন। কোথাও পানি নেমে গেলেও পুরো এলাকা কাদায় ডুবে ছিল, আবার কোথাও জলাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। সাতকানিয়ার তেমুহনী এলাকায় নৌকায় করে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হয়েছে। শিশুদের জন্য জ্বরের ওষুধসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করতে পেরে তারা বিশেষভাবে আনন্দিত।
স্বেচ্ছাসেবক আজীজ মোহাম্মদ রিজান বলেন, “‘বন্যার্তদের পাশে নোবিপ্রবিয়ান’ ব্যানারে ২০২৪ সালের নোয়াখালীর বন্যাতেও আমরা কাজ করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও একই প্ল্যাটফর্ম থেকে সফলভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা আমাদের এ উদ্যোগকে সফল করেছে।”
স্বেচ্ছাসেবী শেখ আবরার নাসিফ বলেন, “বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের এ মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। আয়োজকদের আশা, ভবিষ্যতেও এমন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
নওগাঁ | ২০ জুলাই, ২০২৫
ফুটবল | ৩১ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর | ৩১ আগস্ট, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৩১ আগস্ট, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৩১ আগস্ট, ২০২৬
মাগুরা | ৩১ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।